প্রথম ইনিংসই ম্যাচের ভাগ্য এক প্রকার নির্ধারণ করে দিয়েছিল। বিপিএলের একমাত্র কোটিপতি নাঈম শেখ উড়ন্ত সূচনা এনে দিলেও বাকিদের ব্যর্থতায় ১৩ বল আগেই গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। ১৯৫ স্ট্রাইক রেটে ৩৯ রান করা নাঈম পঞ্চম ওভারে প্যাভিলিয়নে যাওয়ার পর শুধুই ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়া দেখেছেন। নাঈম ছাড়া দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পেরেছেন মাত্র আর দুজন। ৮ ব্যাটসম্যানের বাকি সবাই এক অঙ্কের ঘরে ফিরেছেন।
নাঈমের ঝোড়ো শুরু ম্লান হয়ে গেছে মূলত রংপুরের পাকিস্তানি বোলিং অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফের দুর্দান্ত বোলিংয়ে। মাত্র ৩.৫ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন ফাহিম। তাঁর ২৩ বলের ১২টিই আবার ডট! মোস্তাফিজ-নাহিদরা টপ অর্ডারকে ফেরানোর পর চট্টগ্রামের মিডল অর্ডার থেকে বাকিটা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ বলতে গেলে একাই করেছেন ফাহিম।
এর ফলেই বিপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচে আজ সিলেটে ১৭.৫ ওভারে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়েছে চট্টগ্রাম। লক্ষ্য নেমে ডাভিড ম্যালানের ফিফটি ও লিটন দাসের ৩১ বলে ৪৭ রানের ইনিংসে ৩০ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে জিতেছে রংপুর রাইডার্স।
১০৩ রানের ছোট লক্ষ্যে নেমে পাওয়ার প্লে-তে সাবধানে শুরু করে রংপুর। কোনো উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে লিটন-ম্যালান জুটিতে ৪০ রান করে রাইডার্স। এরপর মাঝ ওভারে লিটনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচ থেকেই ছিটকে যায় চট্টগ্রাম। নিশ্চিত ফিফটির দিকে এগিয়ে যাওয়া লিটন ১৩তম ওভারে ৩১ বলে ৪৭ রান করে মুকিদুল ইসলামের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
লিটন ফিফটির দেখা না পেলেও ধীরগতিতে ৪৫ বলে এবারের বিপিএলের নিজের প্রথম ফিফটির দেখা পেয়ে যান ম্যালান। লিটনের বিদায়ের পর রংপুর শেষ দিকে আরও দুই উইকেট হারায়।
১৫তম ওভারের শেষ বলে বিশাল এক ছক্কা মেরে রংপুরের প্রথম ম্যাচেই ২ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন খুশদীল শাহ।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালস শুরুতেই ধাক্কা খায়। নতুন বিদেশি ইংলিশ উইকেটকিপার অ্যাডাম রসিংটনকে এনেও সুবিধা করতে পারেনি দলটি। এই ওপেনার নাহিদ রানার প্রথম ওভারেই মাত্র ১ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে মির্জা বেগকে সঙ্গে নিয়ে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে থাকেন নাঈম শেখ।
ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নাহিদ রানার বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ২১ রান তোলেন নাঈম। তবে এই বাঁহাতি ওপেনার ইনিংস বেশি বড় করতে পারেননি। পঞ্চম ওভারে ২০ বলে ৩৯ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে বোল্ড হয়ে যান।
৪৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানো চট্টগ্রাম নাঈমের বিদায়ের পর ধসের মুখে পড়ে। মিডল ওভারগুলোতে ফাহিম আশরাফের পেসে কেউই সুবিধা করতে পারেনি। আগের ম্যাচে ফিফটি করা মির্জা বেগ দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ রান করেন। শেষ দিকে আবু হায়দার রনির ১৩ রানের ইনিংসে কোনো রকমে এক শ রানের গন্ডি পার করে চট্টগ্রাম।
এ নিয়ে বিপিএলে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট পেলেন ফাহিম আশরাফ। গেল বিপিএলে ফরচুন বরিশালের হয়ে ৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।



