ম্যাচটাতে শ্রীলঙ্কার হারানোর কিছু ছিল না। সুপার এইটে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল লঙ্কানদের। কিন্তু পাকিস্তানের পাওয়ার ছিল অনেক কিছু। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট পেতে এ ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না পাকিস্তানের। তবে সেই জয়ের ব্যবধান হতে হতো অন্তত ৬৪ রানের (আগে ব্যাটিং করলে)।
পাল্লেকেলেতে পাকিস্তান গতকাল জিতেছে ঠিকই। কিন্তু সেই জয়টা পাকিস্তান পেয়েছে মোটে ৫ রানের। এতে শ্রীলঙ্কার মতো টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজেছে সালমান আলী আঘাদেরও!
পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ঘটনা ফিরিয়ে এনেছে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ আফগানিস্তান ম্যাচের স্মৃতি। সাকিব-মুশফিকদের মুখোমুখি হওয়ার আগে তখন পর্যন্ত খেলা ৬ ম্যাচের সবকটিতে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল আফগানদের। অন্যদিকে নিজেদের প্রথম ৬ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশা তখনো বেঁচে ছিল।
এমন ম্যাচের আগে বাংলাদেশের সেমির স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়ে আফগান অধিনায়ক গুলবদীন নাইব বলেছিলেন, ‘হাম তো ডুবে হ্যায় সানাম, তুমকো লেকার ডুবেঙ্গে।’ যার অর্থ দাঁড়ায়, আমরা তো ডুবেছিই, তোমাদের নিয়েই ডুবব। গুলবদীনের হুমকি অবশ্য শেষ পর্যন্ত মুখের কথাতেই থেকেছে, মাঠের লড়াইয়ে ৬২ রানের বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু আফগান অধিনায়ক বাংলাদেশের সঙ্গে যা করতে চেয়েছিলেন, গতকাল পাকিস্তানের সঙ্গে যেন সেটাই করেছে শ্রীলঙ্কা। নিজেরা তো আগেই বিদায় নিয়েছে, পাল্লেকেলেতে পাকিস্তানের জয় ঠেকাতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদেরও বিদায়ঘণ্টা বাজিয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে।
পাল্লেকেলেতে গতকাল আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে শাহিবজাদা ফারহানের সেঞ্চুরি (১০০) ও ফখর জামানের ৮৪ রানে ভর করে ৮ উইকেটে ২১২ রান তোলে পাকিস্তান। সেমিতে যেতে চাইলে লঙ্কানদের ১৪৭ বা তার চেয়ে কম রানে আটকাতে হতো।
কিন্তু সেটা করতে পারেননি শাহিন শাহ আফ্রিদি-নাসিম শাহ-শাদাব খানরা। পাভান রত্নায়েকের ফিফটি (৫৮) ও শেষ দিকে দাসুন শানাকার ৩১ বলে অপরাজিত ৭৬ রানের ঝড়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামে ২০৭ রানে। এতে মাত্র ৫ রানের জয় পায় পাকিস্তান।
দলকে প্রায় জয়ের কাছাকাছি নিয়েও শেষ পর্যন্ত মলিন মুখেই মাঠ ছাড়েন শানাকা। অন্যদিকে জিতেও মলিন মুখে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় পাকিস্তানকে। শ্রীলঙ্কা তো আগে থেকেই ডোবা ছিল, এবার পাকিস্তানকেও ডুবিয়ে ছাড়ল।



