নিজেদের ইতিহাসে সাতবারই লিগ জিতেছে তারা। সেটাও টানা সাতবার! ২০০১-০২ থেকে শুরু করে ২০০৭-০৮ পর্যন্ত টানা সাত মৌসুমে ফ্রেঞ্চ লিগ আঁ-র শিরোপা গেছে অলিম্পিক লিওঁর ঘরে। পিএসজি কাতারি মালিকানায় যাওয়ার পর থেকে দাপট দেখাচ্ছে তো গত দশক থেকে, তার আগে ফ্রেঞ্চ লিগে এই শতাব্দীর শুরুতে দাপটটা ছিল লিওঁরই। সেই লিওঁকেই আজ ফরাসি লিগ আঁ থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো দ্বিতীয় বিভাগ লিগ দো-তে। কারণ, আর্থিক দুরবস্থা।
ফ্রেঞ্চ লিগের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এলএফপে-র প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বিভাগ দেএনজেসে – যারা ক্লাবগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, তারা গত নভেম্বরেই লিওঁকে তাদের আর্থিক দুরবস্থার কারণে ‘শর্তসাপেক্ষ অবনমনে’র সিদ্ধান্ত জানিয়ে সতর্ক করে দিয়েছিল। হিসেবটা ছিল এই যে, দেএনজেসের বেঁধে দেওয়া কিছু শর্ত পূরণ না হলে মৌসুমের শেষে অবনমিত হয়ে যাবে লিওঁ। আজ অবনমিত করে দেওয়ার সিদ্ধান্তই নিয়েছে দেএনজেসে।
অবশ্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ পাবে লিওঁ। এক বিবৃতিতে দেএনজেসে-র সিদ্ধান্তকে ‘দুর্বোধ্য’ জানিয়ে লিওঁ জানিয়েছে, তারা আপিল করবে। আপিলে লিওঁ জিতলে লিওঁ লিগ আঁ-তেই থাকবে, সে ক্ষেত্রে লিগ দো-তে নেমে যেতে হবে রেঁসকে, যারা কিনা অবনমনের প্লে-অফে মেতসের কাছে হেরেছে।
বিবিসির প্রতিবেদন, ক্লাবের মালিক জন টেক্সটরসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কয়েকজন গতকাল মঙ্গলবার দেএনজেসে-র সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে তাঁরা বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে, নভেম্বরের পর থেকে এ পর্যন্ত ক্লাবের আর্থিক বিবরণীতে যথেষ্ট উন্নতি করেছে লিওঁ, যা শর্তসাপেক্ষ শাস্তিটা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু দেএনজেসে তাঁদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়।
লিওঁর ৭৭ শতাংশের মালিক জন টেক্সটরের মালিকানাধীন ঈগল ফুটবল গ্রুপ গত অক্টোবরে জানিয়েছিল, লিওঁর দেনার পরিমাণ ৪২ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড! এরপর নভেম্বরে দেএনজেসে-র শর্তসাপেক্ষ শাস্তির ঘোষণা আসার পর থেকে লিওঁ জানুয়ারিতে মিডফিল্ডার মাক্সন্স কাকেরে-কে ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর কাছে আর জুনে প্লেমেকার রায়ান শেরকিকে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে বিক্রি করে ৪ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড আয় করেছে। এর বাইরে চড়া বেতনভোগী খেলোয়াড়দের মধ্যে স্ট্রাইকার আলেক্সন্দ লাকাজেত আর গোলকিপার আন্থনি লোপেসকে চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
এসবের বাইরে টানা দুই মৌসুমে ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ থেকে প্রাপ্ত আয়ের কথা জানিয়ে লিওঁ বিবৃতিতে লিখেছে, ‘…সহজভাবে বললে, আমরা বুঝতেই পারছি না কীভাবে একটা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এত বড় মাপের একটা ফ্রেঞ্চ ক্লাবকে অবনমিত করে দেওয়া হলো!’
আর লিওঁর মালিক জন টেক্সটর গত মঙ্গলবার দেএনজেসে-র সঙ্গে বৈঠকের আগেও জানিয়েছিলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে আমরা বিভিন্নভাবে ক্লাবে বিনিয়োগ করেছি। আর্থিকভাবে সবকিছু ঠিকঠাকই আছে।’
জন টেক্সটর ব্রাজিলিয়ান ক্লাব বোতাফোগোরও মালিক, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ক্রিস্টাল প্যালেসেরও মালিক ছিলেন। যদিও প্যালেসে তাঁর ৪৩ শতাংশ মালিকানার ভাগ সম্প্রতি টেক্সটর বিক্রি করে দিয়েছেন আমেরিকান ফুটবলের ক্লাব নিউইয়র্ক জেটসের মালিক উডি জনসনের কাছে, সেই বিক্রির চুক্তি এখন ইংলিশ ফুটবল লিগ কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায়।
লিওঁ তাদের বিবৃতিতে প্যালেসের মালিকানা বিক্রির অর্থের কথাও লিখেছে, ‘গত কয়েক মাসে আমরা দেএনজেসে-র সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছি, মালিকানা স্বত্ত্বের দিক থেকে বিনিয়োগের জন্য তাদের বেঁধে দেওয়া সীমারও বেশি আমরা পূরণ করেছি। আমাদের শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ ও ক্রিস্টাল প্যালেস বিক্রি থেকে থেকে পাওয়া অর্থের কারণে আমাদের ক্যাশ ফ্লো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি করেছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমের জন্য এখন আমাদের হাতে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি ক্যাশ আছে।’
গত বছর ছয়বারের লিগ আঁ চ্যাম্পিয়ন বোর্দো দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার কারণে লিগ দো থেকে অবনমিত হয়ে যায় ফ্রেঞ্চ ফুটবলের চতুর্থ স্তরে, যে কারণে ক্লাবটির পেশাদার স্ট্যাটাসও সরিয়ে নিতে হয়।



