হাঁটুর চোটে ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নোভাক জোকোভিচ। গত সোমবার টুর্নামেন্টে শেষ ষোলোর ম্যাচ জিতলেও সে ম্যাচে ডান হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন রেকর্ড ২৪টি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক। আজ কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ থাকলেও গতকাল টুর্নামেন্ট থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি।
একইসঙ্গে এটিও নিশ্চিত হয়ে যায়, ২০০৪ সালের পর এই প্রথম ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে থাকছেন না রাফায়েল নাদাল, রজার ফেদেরার কিংবা জোকোভিচের কেউই। সব ধরনের গ্র্যান্ড স্লামের হিসেব ধরলে ছেলেদের এককে গত ২০ বছরে এই প্রথম তিন কিংবদন্তির কাউকে ছাড়া সেমিফাইনাল দেখতে যাচ্ছে টেনিস।
ফেদেরার অবশ্য ২০২২ সালেই অবসর নিয়েছেন। রোঁলা গারোর মহানায়ক রেকর্ড ১৪ বার ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ী নাদাল এবারের টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছেন। বাকি ছিলেন ৩৭ বছর বয়সী শীর্ষ বাছাই জোকোভিচ। তিনিও কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই সরে গেলেন। যাওয়ার আগে একটা নতুন রেকর্ডও গড়েছেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি। গত সোমবার শেষ ষোলোর ম্যাচ জিতে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ইতিহাসে রেকর্ড ৩৭০টি ম্যাচ জিতেছেন জোকোভিচ।

চোটের অবস্থা জানতে গতকাল মঙ্গলবার হাঁটুতে স্ক্যান করান জোকোভিচ। রিপোর্টে দেখা গেছে, তাঁর ডান হাঁটুর মেডিয়াল মিনিস্কাস ছিড়ে গেছে। আগে থেকেই হাঁটুর সমস্যায় ভুগছিলেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি। কিন্তু সেটি বেড়ে যায় সোমবার চতুর্থ রাউন্ডে। এ জন্য রোঁলা গারোর ‘পিচ্ছিল’ কোর্টকে দায়ী করেছেন টেনিসের শীর্ষ বাছাই।
আজ ফ্রেঞ্চ ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে টেনিসের সপ্তম বাছাই নরওয়েজিয়ান কাসপার রুদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ৩৭ বছর বয়সী জোকোভিচের। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার টুর্নামেন্ট থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন জোকোভিচ।
গতকাল জোকোভিচ বলেছেন, ‘আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাকে সরে যেতে হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শের পর আমার দল ও আমাকে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে হয়েছিল।’
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আগামী জুলাইয়ে শুরু হতে যাওয়া উইম্বলডনের আগে জোকোভিচ সুস্থ হয়ে পুরোপুরি ফিটনেস ফিরে পাবেন কি না, এ নিয়েও শঙ্কা আছে। উইম্বলডনে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন সার্বিয়ান মহাতারকা। ফ্রেঞ্চ ওপেন থেকে সরে দাঁড়ানোয় টেনিসের শীর্ষস্থানও হাতছাড়া হতে যাচ্ছে জোকোভিচের। তাঁর জায়গায় র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠছেন ২২ বছর বয়সী ইতালিয়ান তারকা ইয়ানিস সিনার।



