চা,পান আর মুদির দোকানের নারীদের স্বপ্ন

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৫, ১২:৫২ পিএম

নারী বলতেই আমরা বুঝি, সকালে ঘুম থেকে ওঠে পরিবারের কাজ শুরু করা এবং সন্তানের দেখাশোনাসহ সংসারের যাবতীয় কাজ করা। এ যেন তার নিত্যদিনের বাঁধাধরা রুটিন।

নারীরা জীবিকার তাগিদে পরিবারের দায়িত্বও নেন। এ কাজে পরিবার কিংবা প্রিয়জনের সহযোগিতাও পান। তবে, এমন অনেক নারী আছেন, যারা পরিবার থেকে কোনো সহযোগিতা পান না। তবুও থেমে থাকে না তাদের জীবন সংগ্রামের লড়াই। তারা নিজের পাশাপাশি সন্তানের পড়ালেখারও দায়িত্ব নেন। এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনেন।

সমাজে অনেক নারীই বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকেন। তারা সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও নিম্নশ্রেণির নারীরা নিজ নিজ পেশায় মানবেতর জীবন কাটান।

 চা বিক্রেতা হালিমা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত সমাজে অনেক নারী আছেন, যারা মুদি, চা, সবজির দোকানে ব্যবসা করেন। এমন একজন নারী চা বিক্রেতা হালিমা খাতুনের সঙ্গে দেখা হয় বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে। কীসের জন্য তিনি এই পেশায় আছেন, এই প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ২ ছেলে-মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়া দিছি। এহন ছোট পোলারে বড় করাই আমার স্বপ্ন। ছেলেমেয়ের জন্যই এই যে চা বিক্রি করতেছি ৮ বছর ধইরা। আমার জামাইয়ের ইনকামে সংসার চালানো অনেক কষ্টের হয়। ভাবলাম আমিও ইনকাম করলে বাচ্চাগুলোকে ভালো কইরা মানুষ করতে পারমু। ওগো ভবিষ্যৎ করে দিতে পারলে আমার শান্তি। আমি সকাল ১০ টা থেইকা চা বিক্রি করি। আর সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকি।’

সন্ধ্যার পর চা বিক্রি করেন না কেন? হালিমা এর জবাবে জানান, সন্ধ্যার পরে চা বিক্রি করাটা অনেকেই ভালো ভাবে নিতে চান না। আমি চাই না কারো কাছে খারাপ হইতে। আমাগো সমাজ তো ভালা কিছু ভাবতেই পায় না। এমনিতেই দিনে ব্যবসা করি তাই কত মাইনষে কত কিছু কয়। আমি চা বিক্রি করি আমার প্রয়োজনে। কেউ কি আর আমার সন্তানদের দেখব? নাকি আমি কারো কাছে হাত পাতলে আমারে সাহায্য করবো।

পান বিক্রেতা রানু বেগম। ছবি: সংগৃহীত মিরপুরে বাংলা কলেজের পাশেই দেখা হয় পান বিক্রেতা রানু বেগম এর সঙ্গে। তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ‘১২ বছরের বেশি হইয়া গেল পান বিক্রি করতাছি। শ্যামবাজার থেইকা পাইকারি দামে পান কিন্না আনি। সকাল ১০ টা থেইকা রাত ১২ টা পর্যন্ত বিক্রি করি পান। সিজন অনুযায়ী পান বিক্রি করি। ঈদ, পূজা আর বিয়ার সিজনে পান বেশি বিক্রি হয়। পান বিক্রি কইরা যা লাভ হয় খারাপ না। নিজেরে চালাইতে পারি এইটাই অনেক। কারো দুয়ারে তো আর হাত পাতি না। বয়স হইতাছে একটু কষ্ট হয় কী।’

সমাজে একেক নারীর জীবন একেক রকম। একজন জীবন চালানোর জন্য কষ্ট হওয়া সত্যেও পান বিক্রি করেন আরেকজন নিজের সন্তানদের জন্য চা বিক্রি করেন। দুজনেই কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নীরবে যুদ্ধ করছেন।

মুদি দোকানদার হালিমা আক্তার হ্যাপি। ছবি: সংগৃহীত নারিন্দার বেগমগঞ্জের মুদি দোকানদার হালিমা আক্তার হ্যাপি। মুদির দোকানে বসেন।  নিজের স্বপ্ন নিয়ে বলেন, ‘মুদি দোকান করতেছি ১৫ বছর ধইরা। সবাই যেমন স্বপ্ন দেখে, আমিও স্বপ্ন দেখি। দোকান আরো বড় করমু, আর একটা দোকান দিমু। এই দোকান কইরা মেয়েরে বিয়া দিলাম। ছেলেরে এহন ও পরাইতাছি। এহন তো ভাড়ায় দোকান চালাই, আমার ইচ্ছা নিজের দোকান হইবো। সকাল ৮ টায় দোকান খুলি আর রাত ১ টা বা ২ টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে। বাসা কাছেই তাই সমস্যা হয় না। জামাই এ কাজে সহযোগিতা করে। সংসারের কাজ কইরা তারপরে দোকানে বসি।’

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে চা,পান বিক্রি কিংবা মুদির দোকান করা সহজ নয়। হালিমা, রানু, হ্যাপিদের মতো অনেক নারীই জীবনের প্রয়োজনে বেঁছে নিয়েছেন সংগ্রামী জীবন। প্রত্যেকেই তাদের এই পেশা নিয়ে স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখেন তাদের প্রিয়জনদের নিয়ে। তাদের প্রত্যেকের স্বপ্ন পূরণ হোক এবং জীবনের চলার পথ সহজতর হোক।

সৌন্দর্যশিল্প খাতের ৯৯ জন উদ্যোক্তার উঠে আসার গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘চলো এগিয়ে যাই’ বই। সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ এবং উজ্জ্বলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের পরিকল্পনা ও সম্পাদনায়...
বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর সরকারি চাকরিতে বাড়ছে নারীর অংশগ্রহণ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য বলছে, ৬৪ জেলার মধ্যে ২১ জেলার দায়িত্ব সামাল দিচ্ছেন নারী জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। পাশাপাশি বেড়েছে...
হয়তো আপনার পরিচিত কোনো স্কুলপড়ুয়া মেয়ের ফেসবুক আইডি থেকে অদ্ভুত কিছু বার্তা পেলেন। অবাক হবেন না, হয়তো আপনার পরিচিত সেই মেয়েটি সাইবার অপরাধের নির্মম শিকার। এমন ভুয়া আইডি তৈরি করে বিভিন্নজনকে পাঠানো...
ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করে রাষ্ট্রকে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে। নারী উদ্যোক্তা ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেছেন, সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম ও উৎসব পালনের শতভাগ অধিকার দিয়েছে। তাই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনে কোনো দুশ্চিন্তা বা শঙ্কার...
রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রসংস্কারের যে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর