সামরিক বাহিনীকে বিদেশি বিভিন্ন ড্রাগ কার্টেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গোপন এক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁর প্রশাসনের চোখে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত কিছু লাতিন আমেরিকান মাদক চক্রের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পেন্টাগনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের মাদক চক্রবিরোধী অভিযানে মার্কিন সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফেন্টানিলসহ অন্যান্য অবৈধ মাদক ঠেকানোর দায়িত্ব এতদিন মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ছিল।
ট্রাম্পের নির্দেশে সামরিক পদক্ষেপের জন্য একটি সরকারি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। ফলে সমুদ্র পথে এবং বিদেশের মাটিতে কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা এরই মধ্যে বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করতে শুরু করেছেন, যাতে এসব চক্রকে কীভাবে লক্ষ্যবস্তু করা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এ কথা জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, এই আদেশের মাধ্যমে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের সহায়তায় এসব ড্রাগ কার্টেলকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা এসব গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করতে পারি, শুধুই মাদক চোরাচালানকারী হিসেবে নয়।’
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লৌদিয়া শেইনবউম বলেছেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপে মেক্সিকোতে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ হবে না। এটা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যাত। মেক্সিকোর সার্বভৌমত্ব অবিচ্ছেদ্য।’
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ আইনগত ও নৈতিকভাবে বিতর্কিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বিশেষ করে যারা এসব গ্যাংয়ের দখলে থাকা এলাকায় বসবাস করছেন।



