দায়িত্ব গ্রহণের পরই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে জারি করেছেন তিনটি নির্বাহী আদেশ। তাছাড়া, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, কর্পোরেট কর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন তিনি। এদিকে ইসরায়েলের সমর্থনে আগের মেয়রের জারি করা নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছেন মামদানি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত বছরের ৪ নভেম্বর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি। শহরটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম এবং সবকনিষ্ঠ মেয়র হয়ে সাড়া ফেলে দেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত মামদানি।
এ বছরের প্রথম দিনে ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মামদানি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয় নববর্ষের প্রথম প্রহরে নিউইয়র্ক সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনের একটি ঐতিহাসিক ট্রানজিট হাবে, যা ১৯৪৫ সাল থেকে বন্ধ ছিল।
সেখানে পবিত্র কোরআন হাতে শপথ নেন ৩৪ বছর বয়সি মামদানি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রামা দুয়াজিও। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।
এরপর দিনের বেলা সিটি হলের সিঁড়িতে এক বড় গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়। তীব্র শীত উপেক্ষা করে লাখো মানুষ সে আয়োজনে যোগ দেন। মামদানি তাঁর অভিষেক ভাষণেই ধনীদের ওপর উচ্চহারে কর আরোপ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ব্রুকলিনের একটি ভবনে দাঁড়িয়ে তিনি আবাসন সংক্রান্ত ৩টি নির্বাহী আদেশ ঘোষণা করেন।
জোহরান মামদানি বলেন, ‘আজ আমরা ৩টি নির্বাহী আদেশ ঘোষণা করছি। প্রথমটি হলো, ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে, বাড়িওয়ালা দায়িত্বশীলভাবে বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ না করলে প্রশাসন তাতে হস্তক্ষেপ করবে। দ্বিতীয়ত, এলআইএফটি টাস্ক ফোর্স গঠন, যা আবাসন খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে। আরেকটি হলো- বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধের উদ্যোগ।’
মামদানির নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রধান স্তম্ভ ছিল কর সংস্কার এবং আবাসন সুরক্ষা। তিনি নিউইয়র্কের কর্পোরেট কর ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১১ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন এবং বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি উপার্জনকারীদের ওপর কর বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।



