প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর হুংকার ও পিছু হটার প্রবণতা নিয়ে নতুন চর্চা শুরু হয়েছে মার্কিন গণমাধ্যমে। আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও বাণিজ্যনীতির ক্ষেত্রে বারবার হুমকি দিয়েও বাস্তবায়নের ব্যর্থতায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন রিপাবলিকান দলনেতা। তাঁর এই বিচিত্র স্বভাবকে ব্যঙ্গ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যবহৃত হচ্ছে নতুন উদ্ভাবিত শব্দ ‘ট্যাকো’।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সমার্থক শব্দ হিসেবে মার্কিন গণমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই শব্দ।
বিখ্যাত মেক্সিকান খাবার ট্যাকোর সঙ্গে মিল রেখেই প্রচলন হয়েছে শব্দটির, যার পূর্ণরূপ দাঁড়ায়—‘ট্রাম্প অলওয়েজ চিকেন্স আউট’। অর্থাৎ বিপাকে পড়লেই মুরগির মতো পিছু হটেন ট্রাম্প। বড় বড় হুমকির সঙ্গে ট্রাম্পের কাজকর্মের কোনো মিল না থাকায় বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছে শব্দভিত্তিক এই ট্রোল।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আর বিভিন্ন দেশে শুল্ক আরোপের পর অবস্থানের পরিবর্তন এই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ মাসে অন্তত পাঁচবার ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি।
গত ২১ মার্চ প্রথমবার হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় ওয়াশিংটন। তবে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এরপর ৭ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ‘আজ রাতেই একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’ বলে পূর্বাভাস দেন ট্রাম্প। তবে পরদিনই সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র।
গত ৪ মে হরমুজে আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধারে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মাত্র দুই দিন পরই ট্রুথ সোশ্যালে তা স্থগিতের কথা জানান।
এ ছাড়া ১১ জুন ইরানের খার্গ দ্বীপ ও তেল শোধনাগার দখলের হুমকি দিয়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইউ-টার্ন নেন রিপাবলিকান দলনেতা। জানান, সমঝোতার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান চান তিনি। সবশেষ গত ১ আগস্ট ইরানে নতুন করে হামলা শুরুর ঘোষণা দিয়ে পরে তা স্থগিত করে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় বড় হুমকির পর আকস্মিক পিছু হটার এই কূটনীতি ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কথার লড়াইয়ে পারদর্শী মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘ট্যাকো’ নীতিতে তলানিতে পৌঁছে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি।



