ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে জি-২০ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের পর্দা নামবে আজ। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, টেকসই উন্নয়ন। এ ছাড়া চলমান ইউক্রেন যুদ্ধও ঠাঁই পেয়েছে এবারের সম্মেলনের আলোচনায়।
জি-২০ কী
জি-২০ বা গ্রুপ অব টোয়েন্টি হচ্ছে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান নিয়ে আলোচনাকারী বেশ কয়েকটি দেশের ক্লাব বা জোট। জি-২০ জোটের সদস্য দেশগুলো বিশ্ব অর্থনীতির ৮৫ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে। এ ছাড়া বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ রয়েছে জি-২০ জোটের দেশগুলোতে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের ১৯টি দেশ জি-২০ ক্লাবের সদস্য। দেশগুলো হচ্ছে—আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। জি-২০ দেশগুলোর ছোট একটি ক্লাব হচ্ছে জি-৭।
কেন গুরুত্বপূর্ণ জি-২০
এশিয়ায় অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হওয়ার পর ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জি-২০ জোট। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রথমে এটিকে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি ফোরাম হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছিল। ফোরামটির নেতাদের নিয়ে প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালে। কারণ ওই বছর বিশ্বজুড়েই আর্থিক মন্দা দেখা দিয়েছিল। সেই মন্দা কাটাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রচারের লক্ষ্যে এক টেবিলে বসেছিলেন ফোরামের নেতারা।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়েনর মতো বিষয়গুলোও স্থান পাচ্ছে জি-২০ জোটের এজেন্ডায়। প্রতি বছর একটি দেশ জি-২০ ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং শীর্ষ সম্মেলনের এজেন্ডা নির্ধারণ করে থাকে।
কারা যোগ দিয়েছেন এবারের জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে
সভাপতি রাষ্ট্র হিসেবে এ বছরের জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ভারত। সম্মেলনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতারা যোগ দিয়েছেন। তবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ সম্মেলনে উপস্থিত হননি। পুতিন তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে সের্গেই লাভরভকে পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে শি জিনপিং পাঠিয়েছেন তাঁর দেশের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংকে।
আয়োজক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর দেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে নিজেকে বিশ্বের কাছে একজন গুরুপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রচার করার প্রয়াস পেয়েছেন। একই সঙ্গে ভারতকেও একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন।
এ পর্যন্ত জি-২০ জোটের অর্জন কী
অর্থনৈতিক মন্দা কাটানোর জন্য ২০০৮ ও ২০০৯ সালের শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে অনেক সমালোচক বলেন, পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলনগুলো তুলনামূলক কম গঠনমূলক হয়েছে। তবে বিশ্বনেতাদের মধ্যে সরাসরি দেখা হওয়া ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।
উদাহরণ হিসেবে ২০১৯ সালে জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে কথা বলা যায়। ওই সম্মেলনে তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একটি বড় বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পুনরায় আলোচনা শুরু করতে সম্মত হন।



