ইসরায়েলের অগ্রাসনে বিধ্বস্ত লেবাননবাসীর দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়। তবে গত ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে জনজীবনে। বাস্তুচ্যুত পরিবারের সদস্যদের ঘরে ফেরার অপেক্ষায় আছে স্বজনেরা।
দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরের বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী তারেজ বুত্রোস। তার দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে জানালার পাশে বসে, ছেলেমেয়েদের ফেরার পথ চেয়ে। ইসরায়েলের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বুত্রোসের মত অনেকেই পরিবার পরিজনের সঙ্গে পুনর্মিলনের আশায় আছেন।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে তারেজের ৩ সন্তান। তার মতোই অনেক বাবা-মা নিখোঁজ সন্তানদের আরেকবার দেখার আশা নিয়ে বেঁচে আছেন।
শোকাহত তারেজ বুত্রোস বলেন, এই প্রথম আমরা ইস্টারে কোনো উৎসব করছি না। যুদ্ধের পরিস্থিতি দেখে আমরা হতাশায় ভেঙে পড়েছি। একে অপরের সঙ্গে কথা বলার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছি।
তারেজের পরিবার গত বছর ইস্টারের পর পারিবারিক এক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল। সেসময় ঐতিহ্যবাহী সব খাবার আর মিষ্টান্নের ঘ্রাণে মুখরিত ছিল তার বাড়ি। তবে যুদ্ধের ভয়াবহতায় এবছর উৎসবের আমেজ আসেনি পুরো গ্রামে।
তারেজ জানান, যুদ্ধবিরতির ফলে আমরা আবার আমাদের পরিবারের সঙ্গে একত্রিত হব। সবাই মিলে আনন্দ উদযাপন করব। আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, আমার ছেলেমেয়েরা ফিরে এলে আমি তাদের জন্য মাহশি, কাহক আর মামুল মিষ্টি রান্না করব।
ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে দক্ষিণ লেবাননের বেশিরভাগ সরকারি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ১২ লাখের বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির একাংশ। এরই মাঝে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে আশার আলো দেখছেন লেবাননবাসী।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ ১০০টি স্থানে ১৬০টি বোমা হামলা চালায় ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। এতে একদিনেই দেশটিতে নিহত হন ২৫৪ জন, আর আহতের সংখ্যা প্রায় ১২শ জন।
এর আগে, ২ এপ্রিল ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এরপর থেকেই দেশটিতে নির্বিচারে হামলা চালাতে থাকে ইসরায়েল। তবে গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল ও লেবানন। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
লেবাননবাসীর মনে প্রশ্ন, ১০ দিনের চলমান এই যুদ্ধবিরতির পর কী হবে? যুদ্ধের দামামা কি আবার বাজবে? এসব শঙ্কা মাথায় নিয়েই দিন কাটছে তাদের। সার্বিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের স্থায়ী ও স্থিতিশীল সমাধানের আশাতেই অপেক্ষা করে আছে দেশটির লাখো মানুষ।



