মানিকগঞ্জের ঘিওরে ৫ বছরের এক শিশু অপহরণ ও মুক্তিপণ মামলায় নান্টু প্রামানিক (৩৩) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে মানিকগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক বেগম তানিয়া কামাল এ রায় দেন। আসামি নান্টু প্রামানিক বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার শৈলদুর্গি এলাকার মৃত নবীর উদ্দিনের ছেলে।
মামলার এজহার সুত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল বিকেলে মানিকগঞ্জের ঘিওরের শিশু আল রাফিকে চকলেট খাওয়ানোর কথা বলে অপহরণ করে দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসামি নান্টু প্রামানিক।
এরপর ৭ এপ্রিল সকালে শিশুর বাবা রুস্তম আলীকে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে এসে শিশু রাফিকে নিয়ে যেতে টেপড়া বাজারের আসতে বলেন তিনি। বিষয়টি শিবালয় থানা পুলিশকে জানালে বরংগাইল এলাকা থেকে শিশু সহ নান্টুকে আটক করে।
পরে ৭ এপ্রিল বিকেলে শিশুর বাবা রুস্তম আলী বাদি হয়ে শিবালয় থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে হাজিরা না দিয়ে পালিয়ে যান নান্টু প্রামানিক।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আব্দুল হান্নান ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল নান্টু প্রামানিক ও তার সহযোগী জ্যোতি অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ.কে.এম নুরুল হুদা রুবেল বলেন, মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আসামি পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতে বিচারক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
মামলার আরেক আসামি জ্যোতি দোষী প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়। মামলায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।



