ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে নোয়াখালীর উপকূলীয় বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে গেছে। এতে অনেক জায়গায় সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ সংযোগ।
জেলা শহরের শিল্পকলা একাডেমির পাশের সড়কে গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে গেছে। এছাড়া দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া, সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের ভোগান্তিতে রয়েছে মানুষ। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে জমির পাকা ধান হেলে পড়েছে।
জেলা শহরের বাসিন্দা আবু বকর ছিদ্দিক নামের এক পথচারী বলেন, ‘গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ নাই। আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। বিদ্যুৎ বিভাগ যদি দ্রুত কাজ করে তাহলে আমরা বিদ্যুৎ পাব।’
হাতিয়ার কৃষক কেফায়েত হোসেন বলেন, ‘এবার আমন ধানের ফলন ভালো হলেও সব ধান আমরা তুলতে পারিনি। অনেক ধান হেলে পড়েছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে।’
হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাসেদ সবুজ বলেন, ‘প্রায় ২০ শতাংশ আমন ধান হেলে পড়েছে। মাঠে থাকা শীতকালীন সবজিরও ক্ষতি হতে পারে। তবে এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে সময় লাগবে।’
নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রচুর বাতাস হচ্ছে। আমাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যেতে পারছে না। বাতাস কমলে আমরা সেসব স্থানে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, ‘যেসব স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেগুলোর তালিকা সংগ্রহ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা পেলে খুব শিগগিরই জানানো হবে।’
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ২৪ লাখ টাকা এবং ৪৭৯ টন চাল বিতরণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রায় ৯ হাজার স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছে। এছাড়াও ১০২টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। সকল সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নিজ নিজ স্টেশনে প্রস্তুত থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’



