নির্বাচনের পথে আওয়ামী লীগ–জাতীয় পার্টি, কী করবে বিএনপি?

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৩, ১০:০০ পিএম

আওয়ামী লীগের পর এবার নির্বাচনের রাস্তায় নামল জাতীয় পার্টিও। দলটি ঘোষণা দিয়েছে সোমবার থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরুর। এর মধ্য দিয়ে আমেরিকা যে তিনটি দলকে শর্তহীন সংলাপে বসতে আহ্বান করেছিল, তাদের মধ্যে দুটিই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনমুখী অবস্থান নিল। চিঠি পাওয়া আরেক দল বিএনপি এখনো তাদের দাবিতে অনড়। 

গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে সিইসি জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ জানুয়ারি।

তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। প্রচারণা শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে, চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। 

তফসিল ঘোষণার আগে দেশের তিন প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয় আমেরিকা। 

আমেরিকার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর দেওয়া এ চিঠির বক্তব্য তুলে ধরে মার্কিন দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরিচালিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় আমেরিকা। এতে সব পক্ষকে সহিংসতা পরিহার ও সহনশীল থাকার অনুরোধ জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, আমেরিকা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেয় না। এ ছাড়া সবগুলো পক্ষকে শর্তহীন সংলাপে বসার আহ্বানও জানানো হয়েছে চিঠিতে।

নির্বাচনে বাধা দেওয়াদের জন্য মার্কিন ভিসানীতির বিষয়টিও চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

গত ১৭ নভেম্বর ডোনাল্ড লুকে চিঠির প্রত্যুত্তর দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। চিঠিতে তিনি লেখেন, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ সম্ভব নয়। 

এরই মধ্যে গত শনিবার থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ। গত দুদিনে ২ হাজার ৩০০ ফরম বিক্রি করেছে দলটি। ফরম সংগ্রহ চলবে আরও দুদিন। প্রয়োজনে সময় বাড়তে পারে।

নির্বাচনে কে কার সঙ্গে জোট করবে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। এখন পর্যন্ত জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে মোট ১০টি দল। ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করার কথা জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ওয়ার্কার্স পার্টি, তরীকত ফেডারেশন, জেপি, সাম্যবাদী দল ও গণতন্ত্রী পার্টি।

জোট করা নিয়ে কিছুটা মতবিরোধ আছে জাতীয় পাটির মধ্যে। দলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করার কথা। অন্যদিকে দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলছেন, এবার জোট নয়, বরং এককভাবে নির্বাচন করবে জাতীয় পার্টি। 

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রোববার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন রওশন এরশাদ। পরে বৈঠক শেষে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা সাংবাদিকদের জানান, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য তফসিল কিছুটা পেছাতে আহবান জানিয়েছেন বিরোধীদলের নেতা। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছে রাষ্ট্রপতিকে।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টা থেকে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম দেওয়া হবে। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরমের মূল্য ৩০ হাজার টাকা।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘দেশের দুটি বড় দলই তাদের যে পয়েন্ট, সেটার মধ্যে রিজিড। দুদলই জনগণের স্বার্থ বাদ দিয়ে প্রেস্টিজ ইস্যু বা ইগো (নিয়ে) কাজ করছে। আমরা সরকার পদত্যাগ করে চলে যাক—এটাও চাই না, আবার সরকারকে বাধ্য করব—এটাও চাই না। আমরা একটি মাঝামাঝি পথ চাই। যাতে সবাই সংবিধানের আলোকে নির্বাচনে আসে। নির্বাচনে যাওয়ার যেসব প্রস্তুতি, সবই আমাদের আছে। এখন আমরা দ্বিধায় আছি। এটা থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারিনি। এ জন্য আমরা একটু সময় নিচ্ছি।’

চুন্নু জানান, এবার নির্বাচনী কোনো জোটে যোগ দেবে না জাতীয় পার্টি। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের দাবিকে প্রাধান্য দিচ্ছি। সঠিকভাবে নির্বাচন যদি হয়, আমরা ৩০০ আসনেই এককভাবে প্রার্থী দিতে চাই। আমরা এবার কোনো জোট–মহাজোট করতে চাই না। একটি আসন না পেলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমরা একটি স্থিতিশীল পরিবেশ চাই।’

অন্যদিকে বিএনপির রাজনীতি এখন হরতাল আর অবরোধেই সীমাবদ্ধ। গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির সমাবেশে সহিংসতার পর থেকে প্রকাশ্যে দলটির তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। সহিংসতার ঘটনায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতা এখন কারাগারে। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কয়েকটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী হওয়ায় এবার নির্বাচন করতে পারবেন না। 

এর মধ্যে খালেদা জিয়া বেশ কয়েক মাস ধরেই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর তারেক রহমান ২০০৭ সাল থেকেই অবস্থান করছেন লন্ডনে। সেখান থেকেই তিনি দেশের রাজনীতি পরিচালনা করছেন। 

বিএনপির যে নেতারা এখন কারাগারের বাইরে আছেন, তাঁরাও প্রকাশ্যে আসছেন না। রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২৮ অক্টোবরের পর থেকে তালাবদ্ধ। দলীয় নেতা–কর্মীরা গ্রেপ্তারের ভয়ে সেখানে যাচ্ছেন না। দলটির জ্যেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী দলটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করছেন। এই কর্মসূচিগুলোর ঘোষণা আসছে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে। 

বিএনপি বলে আসছে, তারা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন করবে না। তাদের দাবি—বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে হলে আগে সরকারকে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে। এখন পর্যন্ত দলটির নির্বাচনে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। 

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর। সে হিসেবে নির্বাচনে আসতে বিএনপির হাতে সময় আছে আর মাত্র ১০ দিন। এ সময়ের মধ্যে দল গুছিয়ে বিএনপি নির্বাচনের জন্য কতটা প্রস্তুত হতে পারবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। 

এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। ২০১৮ সালে নির্বাচনে এলেও বিএনপির তাতে আসন ছিল মাত্র ৭টি। অবশ্য ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করায় ২০১৮ সালের নির্বাচনে না এসে উপায় ছিল না বিএনপির। কারণ, বিধি অনুযায়ী. পরপর দুটি জাতীয় নির্বাচনে কোনো দল অংশ না নিলে দল হিসেবে তার নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়। বিষয়টি এড়াতেই ‘তত্ত্বাবধায়ক’ বা ‘নির্দলীয়’ সরকারের দাবি পূরণ না হলেও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। ফলে এবার নিবন্ধন বাতিলের মতো কোনো ঝুঁকি নেই। সে বিবেচনায় দলটি এবার নির্বাচন বর্জনের পথেও হাঁটতে পারে। তবে গেল দু বছরে হওয়া বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে বিএনপি দল হিসেবে অংশ নেয়নি। যদিও তাদের দলীয় অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। এদের একটি বড় অংশকেই বিএনপি বিহষ্কার করেছে।

সরকার পরিচালনার অংশ হতে চান বিএনপির দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী শরিক দলগুলোর নেতারা। সরকার গঠনের ৫ মাস পর সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছেন তারা। সরকারের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায়...
বিএনপির মিত্র ও শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর আলোচনার বিস্তারিত গণমাধ্যমের...
গণতন্ত্র রক্ষায় এবং জুলাই সনদকে বাস্তবে রূপ দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐক্য থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
নরসিংদীতে আলোচনা সভায় বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, জুলাইয়ের চেতনা বিএনপি সবচেয়ে বেশি হৃদয়ে ধারণ করে। তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন।
গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া ছাড়া অন্য বাস টার্মিনাল আপাতত সরছে না রাজধানী থেকে। তবে সায়দাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী টার্মিনাল থেকে আলাদা করা হচ্ছে বাস ডিপো। পূর্বাচল, নারায়ণগঞ্জ ও কেরাণীগঞ্জে প্রাথমিকভাবে...
বিএনপির নেতারা পুলিশের চেয়ে বেশি সময় থানায় থাকেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।
ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন কংগ্রেস নেতা...
ইরানে বিমান হামলা আরও জোরদারের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, এটি অতীতের ব্যর্থ কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি। তাদের আশঙ্কা, সামরিক চাপ বাড়িয়েও তেহরানকে নতি স্বীকার করানো...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর