অস্থিরতা কাটেনি চালের দামে। দুই দিনের অভিযানের পর খাদ্য কর্মকর্তারা দাম কিছুটা কমার দাবি করলেও বাজারে নেই এর প্রতিফলন। এদিকে ভরা মৌসমেও শীতের সবজির দাম বাড়তি। আবারও উর্ধ্বমুখী গরুর মাংসের বাজার।
গত এক সপ্তাহ ধরেই অস্থির চলছে চালের বাজারে। নানান দোকান ঘুরে দাম-দস্তুর করেও কোনো সুফল মিলছে না।
৫৫ টাকার নিচে মিলছে না মোট চাল। মিনিকেট মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা কেজিতে। ৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে নাজিরশাইলের কেজি। আটাশ জাতের চালের জন্যও গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। বিক্রেতাদের দাবি, মিল মালিকরাই অতি মুনাফার জন্য দাম বাড়াচ্ছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চাল কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘করার কিছু নাই। যেটাই কিনতে যাই সেটার দামই বাড়তি।’
কারওয়ান বাজারের এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, ‘কোম্পানিগুলো চালের বাজারে আসার পর থেকেই বাজারটা নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। ওনাদের হাতেই বাজার। ওনারাই বাজারের দাম ওঠায়, আবার নামায়।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরেও বেড়েছে ধান উৎপাদন। গত অর্থবছরে আউশ, আমন ও বোরো উৎপাদন হয় ৩ কোটি ৯১ লাখ টন। আর চলতি অর্থবছরে আউশ ও আমন উৎপাদন বেশি হয়েছে প্রায় ২১ লাখ টন। আসছে বোরো মৌসুমেও ধানের ফলন লক্ষ্যের চেয়ে বেশি হবে বলে জানায় সংস্থাটি।
কিন্তু ভরা মৌসুমেও চালের দামের এই বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলছেন ব্যবসায়ীরা। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের অনুসন্ধান বলছে, ধান সংকটের গুজব ছড়িয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বাড়ানো হয় চালের দাম। আর এই প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেয় মুনজুরসহ কয়েকটি অটো রাইস মিল। দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় তাল মেলায় বড় করপোরেট গ্রুপগুলোও।
এদিকে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। তবে জরিমানা নয়, সতর্ক করা হচ্ছে মৌখিকভাবে। কোথাও কোথাও তদারকি দল দেখে দোকান বন্ধ করে পালাচ্ছেন বিক্রেতারা।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কুল প্রদীপ চাকমা বলেন, ‘যে সভাটা হয়েছে মাননীয় মন্ত্রীর নেতৃত্বে সেখানে ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা চারদিনের মধ্যে রেট কমাবেন। আজকে হলো দ্বিতীয় দিন। আমরা আরও দুদিন দেখব ব্যবসায়ীরা যদি পূর্বের অবস্থায় ফিরে না যায় তাহলে আমাদের যে আইন, খাদ্যের মজুত–উৎপাদনের যে আইনটা আছে, আমরা সেটা প্রয়োগ শুরু করব।’
স্বস্তি নেই সবজির বাজারেও। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও আলুর কেজি ৫০ টাকা। শীম-টমেটো ৭০ টাকা আর বেগুনের জন্য গুনতে হচ্ছে ৮০ টাকা। ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ফুলকপি-বাঁধাকপি।
সবজি কিনতে আসা এক ক্রেতা অভিযোগের সুরে বলেন, ‘নীতি নির্ধারক যারা আছেন তারাই এর কারণ বলতে পারবেন। আমরা সাধারণ মানুষ, আমরা চাই জিনিসপত্রের দাম কমুক।’
এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘উৎপাদন তো এখনও ভালোভাবে হয়নি। গত বছর যেখানে একটি ফুলকপি পাওয়া যেতো ১০টাকায় এবার সেটা ৫০ টাকা ৬০ টাকা।’
বাজারে নাগালের বাইরে মাংসের দাম। বেশির ভাগ বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা কেজিতে।


ধান সংকটের গুজব ছড়িয়ে বাড়ানো হয় চালের দাম
