সীমান্তের ওপারে চলছে বিদ্রোহী আর মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর লড়াই। আর এপারে সেই সংঘাতের ফায়দা লুটতে মরিয়া হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি পক্ষ। এরইমধ্যে বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ফেলে আসা অনেক গোলা-বারুদ, ভারী অস্ত্র এসব সন্ত্রাসী বাহিনী কব্জা করে নিয়েছে৷যা ভয় বাড়িয়েছে সীমান্তবর্তী সাধারণ বাংলাদেশি মানুষের মনে।
বান্দরবানের তমব্রু, ঘুমধুম আর কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে সীমান্তের ওপারে যখন ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, তখন সীমান্তের শুন্য রেখায় তৎপরতা দেখা গেছে ভিন্ন কারো। অস্ত্র হাতে এসব মানুষ কখনও শুন্যরেখায় আবার কখনও আড়াল হয়ে যাচ্ছে সীমানার ওপারে। এপারে এসে রহমতের বিল, আনজুমান পাড়া এলাকায় একে-৪৭ এর মতো ভারী অস্ত্রসহ ধরাও পড়েছে স্থানীয়দের হাতে। আবার এসব অস্ত্রধারীর হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে দশ জন বাংলাদেশি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এই যুদ্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক আরসা, আরএসও এবং নবী হোসেন গ্রুপ নামে তিনটি পক্ষ কম-বেশি সক্রিয়। সংঘাতময় এলাকায় নিজেদের আধিপত্য তৈরি করে অস্ত্র ও গোলা-বারুদ দখলে নেওয়াই এদের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য এরা কখনো বিদ্রোহীদের সঙ্গে আঁতাত করছে আবার কখনো সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে।
সীমান্তে এসব অস্ত্রধারীর দাপট বাড়ায় যুদ্ধকালীন গোলাগুলির শব্দের আতঙ্কের চেয়েও ভয় বাড়ছে বাংলাদেশিদের।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে খুব আতঙ্কের মধ্যে আমরা আছি। নদীর মধ্যে ভয়াবহ ঝামেলা চলছে। কোনো লোক নামতে দিচ্ছে না বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সেখানে একটা বিদ্রোহী গ্রুপ আছে। ওরা যেতে মানা করছে। আমরা জাল বসাতে পারছি না। প্রজেক্টের মাছ দেখতে পারছি না।’
আরেক বাসিন্দা বলছেন, ‘আমরা শুনছি আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। তার মধ্যে আরেকটি গ্রুপ নবী হোসেন গ্রুপ নামে ভাইরাল হয়েছে। নবী হোসেন গ্রুপের সদস্যরা এখানে আসা-যাওয়া করে। এই বিষয়টি স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে যুদ্ধের চেয়েও বেশি আতঙ্ক হিসেবে কাজ করে বলে আমি মনে করি।’
একদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি আর অন্যদিকে অস্ত্রধারীদের তাণ্ডব, শাখের করাতের মতো উভয়মুখী সংকটে পড়েছে সীমান্তের বাংলাদেশি মানুষেরা। ঘাড়ে চেপে বসা রোহিঙ্গা সংকট প্রতিনিয়ত চোখ রাঙাচ্ছে ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ আর হত্যার মধ্য দিয়ে।
স্থানীয় অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রবিউল হোসেন বলেন, সীমান্তে অনেক অস্ত্রধারীকে দেখা যাচ্ছে। এদের মধ্যে নবী হোসেন গ্রুপ উখিয়া সীমান্তে বেশি সক্রিয়। এদের ভয়ে সীমান্তের মানুষজন যুদ্ধ থেকেও বেশি আতঙ্কে আছে৷
যদিও সংকটময় পরিস্থিতিতে তৃতীয় কোনো পক্ষকে সুযোগ দেওয়া হবে না বলেই জানাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাব-১৫ উপ সহকারী পরিচালক আবু সালাম জানান, কেউ যাতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর আছে৷ কোনো ধরনের অপতৎপরতাই সহ্য করা হবে না৷ মাঠে পোশাকী তৎপরতার বাইরেও গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান আছে।
রহমতের বিল এলাকায় অস্ত্রসহ স্থানীয়দের হাতে আটক ২৩ মিয়ানমারের নাগরিকের বিরুদ্ধে শুক্রবার মামলা করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাও রয়েছে বলে জানা গেছে।


মিয়ানমার থেকে উড়ে এলো রকেট লঞ্চার
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এল আরও ৬৩ বিজিপি
সীমান্তবর্তী স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা আতঙ্কে
