রাজধানীর বেইলি রোডে অগ্নকাণ্ডের শিকার ছয়তলা ভবনটিতে থাকা ছিল সরু সিঁড়ি। শুধু তাই নয়, ওই সিঁড়িতেও রাখা ছিল গ্যাসের সিলিন্ডার। ফলে সিঁড়ি দিয়ে ভবনটিতে আটকে পড়াদের বেরিয়ে আসাটা কঠিন ছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
বেইলি রোডের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। দগ্ধ হয়ে আরও অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। যা পরে ভবনটিতে থাকা গ্যাসরে সিলিন্ডারের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য ২ ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পর সেখান থেকেই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
এ ছাড়া ৪২ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৭৫ জনকে। এর মধ্যে চারজন শিশু ও ২১ জন নারী। বাকি সবাই পুরুষ বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, পুরো ভবনে একটিমাত্র সিঁড়ি ছিল। সেখানে গ্যাসের সিলিন্ডার থাকায় তা বিস্ফোরণ হয়। ফলে আগুন থেকে বাচতে সিড়ি ব্যবহারের সুযোগ সেভাবে নিতে পারেনি আটকে পড়া ব্যক্তিরা।
স্থানীয়রা জানায়, আবাসিক ভবনে বেশ কিছু দোকান ছিল। খাবারের দোকান ছিল। সিঁড়ি দিয়ে বের হওেয়াটা কঠিন। কারণ সরু সিঁড়িটিতে একসাথে দুজন পাশাপাশি ওঠানামা করতে পারে।
এদিকে বেইলি রোডের বহুতল ভবনটির সামনে সাধারণ মানুষ ভিড় করেছেন। আটকে পড়া স্বজনদের খোঁজে এসেছেন অনেকে। এদিকে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস। না হলে আশপাশের ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারত।
আগুন নিয়ন্ত্রণের পর করা সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভবনটি তৈরিতে অনিয়ম ছিল কিনা, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কিনা, এসব তদন্তে রমনা থানায় একটি মামলা করা হবে। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর বেইলি রোডে একটি রেস্টুরেন্টে বৃহস্পতিবার রাত টার দিকে আগুন লাগে। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। শুরুতে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়। কিন্তু আশপাশের কয়েকটি দোকনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণে পরে ইউনিট সংখ্যা বাড়িয়ে ১৩টি করা হয়।



