‘রিয়ার আজ শুক্রবার রাতে মালয়েশিয়া যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। তাই আগেরদিন বৃহস্পতিবার বোনদের নিয়ে গিয়েছিল শপিংয়ে। খালাতো বোন ও খালার সাথে দেখা করে ফেরার কথা। সেখানে গিয়ে আর ফেরেনি আমার দুই মা। যাওয়ার আগে বলেছিল বাবা আমরা তাড়াতাড়ি ফিরব।’
কথাগুলো বলেই কেঁদে উঠেন কোরবান আলী। তাঁর মেয়ে ফৌজিয়া আফরিন রিয়া ও সাদিয়া আফরিন আলিশা বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছে। একইসঙ্গে নিহত হয়েছে তাঁদের খালাতো বোন নুসরাত জাহান নিমু। তাঁদের মরদেহগুলো নিয়ে আসা হয়েছে কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে।
জানা গেছে, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের চরবাড়িয়া এলাকার হাজী কোরবান আলীর মেয়ে রিয়া ও আলিশা। ফৌজিয়া আফরিন রিয়া মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। আর সাদিয়া আফরিন আলিশা ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। রিয়া ও আলিশার খালাতো বোন নুসরাত জাহান নিমু কুমিল্লা সদর উপজেলার হাতিগড়া এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ে। তিনি ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁরা একই সঙ্গে শপিং করতে গিয়েছিল। ফাঁকে কাচ্ছি ভাই রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার কথা ছিল তাঁদের।
নিহতদের বাবা কোরবান আলী বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তাঁরা এলাকায় এসেছিল। কয়েকদিন বাড়িতে থেকে চলে গেছে। আজ শুক্রবার রাতে আমিসহ মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। টিকিটও কেটেছিল। কিন্তু গত রাতেই সে মারা গেছে। নিমু তাঁদের খালাতো বোন। একই সঙ্গে গিয়ে আর ফেরেনি। আমার কাকরাইলের বাসায় থেকে সে পড়াশোনা করত। আমার ঘর আনন্দে ভরে থাকত। আজ আমার ঘর শূন্য।’
সরেজমিনে চরবাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাড়িতে প্রতিবেশিদের ভীড়। সবার চোখে পানি। নারীরা সবাই মরদেহবাহী গাড়ির আশপাশে ভীড় করেছে। কেউ মরদেহবাহী গাড়ি ধরেও কাঁদছে। বাবা কোরবান আলীর পাশেই কাঁদছেন চাচা লোকমান হোসেন। তাঁদের আহাজারি কেন আকাশ ছুঁয়েছে।
কাঁদতে কাঁদতে কোরবান আলী বলেন, ‘যখন জীবিত মানুষ উদ্ধার শেষ হলো তখন আমার শরীর কাঁপছিল। আমি ঘামছিলাম। বুকের ভেতর কেমন জানি হয়েছিল। আমার চোখে পানি আর বুক ভারি হয়ে আসছিল। রাত যখন ১০টার কাছাকাছি তখন আমাদের লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হলো। যে মেয়েকে সন্ধ্যায় ভালোভাবে বিদায় দিয়েছি তাঁর পোড়া লাশ দিয়েছে আমাকে। আমি আমার দুই স্বপ্নের লাশ দিয়ে বাড়ি এসেছি। বিকেলে পুকুর পাশের রেখে আসবো আমার দুই স্বপ্ন।’



