রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভ্লাদিমির পুতিন রেকর্ড পরিমাণ ভোটে (প্রায় ৮৮ শতাংশ) জিতেছেন। স্থানীয় সময় রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আরও ছয় বছর ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত হলো তাঁর। নির্বাচনে পুতিনের জয়ের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা।
জয়ের পর সোমবার এক প্রতিক্রিয়ায় পুতিনকে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। দেশটি বলছে, এর মধ্য দিয়ে চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
রাশিয়ার নির্বাচনের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে।’
এ ছাড়া ভ্লাদিমির পুতিনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। এ ছাড়া অভিনন্দন জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। বাদ যাননি উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনও। তিনি এরই মধ্যে পুতিনকে পাঠিয়েছেন অভিনন্দন বার্তা।
তবে এই নির্বাচনকে ‘পাতানো’ বলে অভিহিত করেছেন পশ্চিমা নেতারা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পুতিন একজন স্বৈরশাসক। ক্ষমতায় থাকার জন্য তিনি যেকোনো অপরাধ করতে পারেন। হোয়াইট হাউস বলছে, এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। কেননা বিরোধীদের পথ থেকে সরিয়ে এবং জেলে বন্দী করে নির্বাচন করেছেন পুতিন।
রুশ নির্বাচনের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। তিনি বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কেমন হবে, তার কোনো নমুনাই এই নির্বাচনে নেই।’ জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেকা বেয়ারবক বলেন, এটি একটি পাতানো নির্বাচন। একই কথা বলছে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।
লিথুনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েলিয়াস ল্যান্ডসবার্গিস বলেন, এই নির্বাচনে রুশ নাগরিকেরা নিজেদের ইচ্ছেমতো প্রার্থী বেছে নিতে পারেননি। এটি বৈধ নির্বাচন হয়নি।
এদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যান লিপাভস্কি বলছেন, রাশিয়ার এই নির্বাচন প্যারোডি ও প্রহসনমূলক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফরেন পলিসির প্রধান জোসেফ বোরেল বলেন, এই নির্বাচন ভয়ভীতি ও দমনের নির্বাচন।
৭১ বছর বয়সী ভ্লাদিমির পুতিন টানা পঞ্চমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। গত তিনদিন ধরে ভোটগ্রহণের পর বুথফেরত জরিপ বলছে, ভূমিধ্বস বিজয় পেয়েছেন পুতিন। কারণ তাঁর কোনো বিরোধী নেই। যারা ছিলেন, তাঁরা সবাই মারা গেছেন অথবা কারাবন্দি রয়েছেন।
আজ সোমবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মস্কোতে তাঁর নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন রুশ জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য এবং আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আপনারা আমার কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করুন।’
পুতিন আরও বলেন, ‘কেউ কেউ আমাদের ভয় দেখাতে চায়, আমাদের দমন করতে চায়, কিন্তু আমাদের ইতিহাস বলছে, এমন অপচেষ্টা কোনোদিন সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও সফল হবে না। রাশিয়াকে কেউ আটকাতে পারবে না।’
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, পুতিন ৮৭ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। রাশিয়ার সোভিয়েত-পরবর্তী ইতিহাসে সর্বোচ্চ ফলাফল পেয়েছেন তিনি। সুতরাং, ১৯৯৯ সালে ক্ষমতায় আসা পুতিন আবার নতুন ছয় বছরের মেয়াদে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তিনি জোসেফ স্ট্যালিনকে ছাড়িয়ে যাবেন এবং ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদি নেতা হবেন পুতিন।
রাশিয়ান পাবলিক ওপিনিয়ন রিসার্চ সেন্টার (ভিসিআইওএম) জানিয়েছে, পুতিন শতকরা ৮৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
এর আগে গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া ও ইউক্রেনে দখলকৃত অঞ্চলে তিন দিনের ভোট শুরু হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হয় গতকাল রোববার।



