আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া অনেক মন্ত্রী ও এমপিদের স্বজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
কাদের বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে এমপি–মন্ত্রীর স্বজনদের অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে অনেকেই করেছেন। সবশেষ গোলাম দস্তগীরের ছেলে প্রত্যাহার করেছেন। সামনে আরও সময় আছে।’
আগামী ৮ মে শুরু হতে যাচ্ছে ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার চার ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ভোট। প্রথম ধাপে ভোট হবে ১৪৬ টি উপজেলায়।
এবারের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে প্রার্থী দেয়নি। মন্ত্রী ও এমপিদের স্বজনদের ভোটে দাঁড়াতেও নিষেধ করেছে দলের হাই কমান্ড। তবে অন্তত ২০ জেলার নানা উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের এমপি-মন্ত্রীদের স্বজনেরা। অভিযোগ উঠেছে, এর লক্ষ্য স্থানীয় রাজনীতিতে নিজস্ব প্রভাব বলয় তৈরি করা। এ ঘটনায় এরই মধ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
মন্ত্রী ও এমপিরা ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে শঙ্কায় আছে নির্বাচন কমিশনও। এরই মধ্যে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মন্ত্রী ও এমপিদের প্রভাব ও হস্তক্ষেপ বন্ধে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে কমিশন।
এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের (এমপি) প্রভাব বিস্তারে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের দলীয় সভাপতির নির্দেশনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এমপি মন্ত্রীদের নিকট আত্মীয় বলতে দলীয় সভাপতি সুনির্দিষ্ট ভাবে স্ত্রী এবং সন্তানদেরকেই বুঝিয়েছেন। তিনি গতকাল সকালে এবং বিকেলে দলীয় সভায় তার খোলাসা করেছেন। নির্দেশ দিয়েছেন, নির্বাচনে কোন প্রকার প্রভাব বিস্তার, হস্তক্ষেপ না করতে। প্রশাসনকে কোনভাবে প্রভাবিত করা যাবে না। পরিষ্কার করে তিনি সে কথা বলেছেন। নেত্রীর গাইডলাইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করব।’
আমেরিকায় ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের হামলার সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকারকে যারা চাপ দেবে তারা নিজেরাই যথেষ্ট চাপে রয়েছে। আরব বসন্তের স্পর্শ আটলান্টিকের ওপারেও লেগেছে।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেশ শাসন করতে গিয়ে আমরা এই চাপ অনুভব করি। নির্বাচনের আগেও তো চাপ, হুমকি–ধামকি ছিল। নিষেধাজ্ঞা দিবে এগুলোতো তারা প্রকাশ্যে বলেছে। এখন স্বাভাবিক কারণে যারা চাপ দিবেন তারা নিজেরাই যথেষ্ট চাপে আছে। আরব বসন্তের স্পর্শ আটলান্টিকের ওপারেও লেগেছে। আমরা দূর থেকেই সেটা দেখতে পাচ্ছি।’
আইনের ফাঁদে খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘বেগম জিয়া আটকে আছেন আইনের ফাঁদে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মামলায় তিনি বন্দি। বিএনপি নেতাদের উপেক্ষা এবং অবহেলার জন্য, হাজিরা বিলম্বিত করা। এক বছরে যেটা শেষ হতো, সেটার ১০ বছরেও বিচার শেষ হয়নি। লিগাল ব্যাটেল করতেও তারা পারেনি। রাজপথেও তারা দেখার মত কোন মিছিল করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উদারতায় বেগম জিয়ার শাস্তি স্থগিত রেখে বাড়িতে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। বাড়িতে বসেই চিকিৎসার নিচ্ছেন। বিদেশ থেকেও চিকিৎসক এসে চিকিৎসা করাচ্ছেন।’
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এদেশে বিরোধী দল কথা এবং বিবৃতি সর্বস্ব রাজনীতি করছে। মাঠে তাদের কোন কর্মসূচি নেই। দ্বিধা বিভক্ত বিএনপির ঘরের রাজনীতিও ঝিমিয়ে পড়েছে। নির্বাচন ঠেকাতে গিয়ে এবং আন্দোলনের নামে অগ্নি সন্ত্রাস করতে গিয়ে সারাদেশে যে অবস্থার সৃষ্টি করেছে, যে নেতিবাচক রাজনীতি করেছে, তাতে দলটির প্রতি জনগণের অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। আবার দল ক্ষমতায় আসবে নেতারা একথা ব্যক্ত করলেও কর্মীরা তা বিশ্বাস করে না।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা (আওয়ামী লীগ) ইতিবাচক রাজনীতি করি। বিশেষ সংকটে যে প্রভাব প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশেও সে প্রতিক্রিয়া থেকে জনগণ কে পরিত্রান দিতে এবং এ সংকট সাময়িক হলেও দূর করতে কিছু বাস্তবমুখী কর্মসূচি নিতে হবে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে, বেকার সমস্যা দূরীকরণ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দলকে সুসংগঠিত করতে নেত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন এবং সেভাবে দলকে আমরা সাজিয়ে নিচ্ছি।’


মন্ত্রী–এমপিদের প্রভাব বিস্তার না করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
এমপি–মন্ত্রীদের প্রভাব রুখতে স্পিকারকে ইসির চিঠি
লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া খালেদা সুস্থ হবেন না: চিকিৎসক 
