বিরোধীদলের লংমার্চ নিয়ে সমালোচনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সোমবার সন্ধ্যায় ঝালকাঠি শহরের একটি পার্টি সেন্টারে এনসিপির জেলা শাখার আয়োজনে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সারজিস আলম বলেন, আমরা লংমার্চ শুরু করেছি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম। তারা (বিএনপি) এটাকে বলছে লংড্রাইভ। অথচ বেগম খালেদা জিয়া কিন্তু এভাবেই লংমার্চ করেছিলেন।
এরআগে গত রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে লংড্রাইভে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে যাওয়া শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে সারজিস বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাকে ঠেকাতে কাউকে আলাদা করে কিছু করতে হবে না। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দরে গিয়ে দাঁড়ালেই যথেষ্ট।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড এখন আর আলোচনায় নেই। শুধু কার্ড তৈরির জন্যই ২৪২ কোটি টাকা খরচ করার কথা বলা হচ্ছে। এটি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়। পরবর্তীতে তারা বুঝতে পেরেছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, সেটিও বড় প্রশ্ন। অথচ নির্বাচনের আগে তারা মানুষকে লোভনীয় অফার দিয়ে প্রলুব্ধ করেছে।
বিএনপির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, বিএনপি সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এখন তারা বলছে, তারা শিশু। তাহলে আপনারা কবে তরুণ বা যুবক হবেন? বিএনপি সরকারে আসার পর এত সংকট তৈরি হয়েছে- এতটা সংকট আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও দেখিনি। অথচ সরকার পরিচালনার জন্য তাদের কোনো ব্যাকআপ বা প্রস্তুতি ছিল না।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু, সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত মহিউদ্দিন রনি এবং ঝালকাঠি জেলা এনসিপির সদস্য সচিব জুবায়ের হাওলাদারসহ নেতাকর্মীরা।



