বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) উপদেষ্টা হায়দার আকবর খান রনোর দাফন আগামী সোমবার করা হবে। দু-দিন তাঁর মরদেহ মরচুয়ারিতে রাখা হবে। এরই মধ্যে তাঁর নিকট আত্মীয়-স্বজন বিদেশ থেকে রওনা দিয়েছেন।
সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জলি তালুকদার জানান, সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ সিপিবি অফিসে রাখা হবে। এরপর শোভাযাত্রা করে মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত দেশবাসীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হবে। এরপর বেলা ১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার বনানীতে বাবা ও মা’র কবরের পাশে হায়দার আকবর খান রনোকে দাফন করা হবে বলেও জানান জলি তালুকদার।
এদিকে, হায়দার আকবর খান রনোর মরদেহ এখন ধানমন্ডিতে তাঁর নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই নেওয়া হবে সমরিতা হাসপাতালের মরচুয়ারিতে।
এরআগে, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৫ মিনিটে হায়দার আকবর খান রনো মারা যান।
হাসপাতালে জলি তালুকদার বলেন, শুক্রবার সকালে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বিকেল থেকেই ফের অবনতি হতে থাকে। তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাচ্ছিল। সঙ্গে রক্তচাপও ভীষণ কমে গিয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সতীর্থ ও গুণগ্রাহীরা হাসপাতালে আসেন।
রাজনীতিবিদ ও লেখক হায়দার আকবর খান রনো তীব্র শ্বাসতন্ত্রীয় অসুখ (টাইপ-২ রেসপিরেটরি ফেইল্যুর) নিয়ে গত ৬ মে সন্ধ্যায় পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে এর আগে জানান হাসপাতালটির পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। অবস্থার অবনতি হওয়ায় হায়দার আকবর খান রনোকে হাসপাতালটির হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রেখে বিশেষ পদ্ধতিতে অক্সিজেন দেওয়া হয়।
হায়দার আকবর খান রনো বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের এক প্রবাদ পুরুষ। তাঁর জন্ম ১৯৪২ সালের ৩১ আগস্ট অবিভক্ত ভারতের কলকাতায়। তাঁর মায়ের নাম কানিজ ফাতেমা মোহসিনা ও বাবা হাতেম আলী খান। হায়দার আকবর খান রনোর একমাত্র ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ প্রয়াত হায়দার আনোয়ার খান জুনো।


কমিউনিস্ট নেতা হায়দার আকবর খান রনো আর নেই
