ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০৫টি উড়োজাহাজ কিনছে সৌদি আরবের জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান সৌদিয়া এয়ারলাইনস। দেশটির অ্যাভিয়েশন খাতের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ক্রয়চুক্তি। প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংকে টপকে আবারও বাজিমাত করল এয়ারবাস।
সৌদিয়া গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক ইব্রাহিম আল–ওমর সোমবার জানান, ২০২৬ সালের শুরুতে প্রথম উড়োজাহাজের চালানটি সরবরাহ করা হবে। সৌদিয়া গ্রুপের অধীনে সৌদিয়া এয়ারলাইনস ও বাজেট এয়ারলাইনস ফ্লাইডিল পরিচালিত হয়।
সৌদিয়া গ্রুপের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের বহরে বর্তমানে ৯৩টি এয়ারবাসের তৈরি ও ৫১টি বোয়িংয়ের তৈরি উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন চুক্তির বাইরেও এয়ারবাসের আরও ৩৯টি উড়োজাহাজ সরবরাহের অপেক্ষায় আছে।
বছরের শুরুতে আলাস্কা এয়ারলাইনসের একটি ৭৩৭ ম্যাক্স–৯ উড়োজাহাজের দরজায় বিস্ফোরণের পর ২৪ জানুয়ারি বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভ কালাহন ক্রেতাদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ইস্যুতে ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) সঙ্গে তারা কাজ করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তাদের উড়োজাহাজগুলো যাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
অবশ্য সৌদিয়া কর্মকর্তা ইব্রাহিত আল–ওমর এয়ারবাসের সাথে হওয়া চুক্তির লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, এয়ারবাসও এই সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে সৌদি আরবের ফিউচার অ্যাভিয়েশন ফোরাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সাথে ১০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে সৌদিয়া।
পৃথক আরেক বিজ্ঞপ্তিতে আল–ওমর জানিয়েছেন, নতুন এই ক্রয়াদেশ সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, ‘বাড়তি চাহিদা পূরণে সৌদিয়ার উচ্চাকাঙ্খা রয়েছে। চারটি মহাদেশের ১০০টির বেশি গন্তব্যে আমরা ফ্লাইট ও আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করছি। একই সঙ্গে বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও আছে।’
দেশটির জাতীয় পর্যটন কৌশল অনুযায়ী, ২০৩০ সাল পর্যন্ত বছরে ১৫০ মিলিয়ন পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
গত জানুয়ারির দুর্ঘটনার পর থেকেই বেশ চাপে রয়েছে এয়ারবাসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বোয়িং। ৭৩৭ ম্যাক্স–৯ মডেলের উড়োজাহাজের ঘটনাটির পর অনেকগুলো তদন্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বোয়িং।
অবশ্য এই পরিস্থিতি নতুন নয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের দুটি উড়োজাহাজ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় পড়ার পর প্রায় ২০ মাস তাদের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া উড়োজাহাজ সিরিজটি গ্রাউন্ডেড ছিল। করোনা মহামারিও উড়োজাহাজ বিক্রিতে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। এ সময় আকাশপথে যাত্রা মাসের পর মাস প্রায় বন্ধই ছিল। ফলে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ব্যবহারকারী এয়ারলাইনসগুলোকে বেশ লোকসান গুনতে হয়েছে।
২০১৯ সাল থেকে এই বছরের শুরু পর্যন্ত বোয়িংয়ের মোট লোকসানের পরিমাণ প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দর কমেছে প্রায় ২৮ শতাংশ।
বোয়িংয়ের ঝুঁলিতে এখনো ৫ হাজার ৬০০টির বেশি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ রয়েছে। যেগুলোর সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৫২৯ বিলিয়ন ডলার। উড়োজাহাজের মান নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে রাতারাতি এগুলো তৈরি করে লাভে ফিরতে পারছে না বোয়িং।
অন্যদিকে, এয়ারবাসের কাছে ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত ছিল প্রায় ৮ হাজার ৬০০টি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ। সেই বছর তারা লাভ করেছে প্রায় ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।



