এয়ারলাইনস এবং যাত্রীদের বিশ্বাস ফেরাতে উড়োজাহাজ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বোয়িংকে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনার তাগিদ দিয়েছে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। এর ফলে সহসাই উড়োজাহাজের উৎপাদন বাড়াতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি বোয়িংয়ের প্ল্যান্টগুলোতে মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোর নিয়মিত পরিদর্শন আরও বাড়বে।
বৃহস্পতিবার এফএএ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বোয়িং উড়োজাহাজের মানোন্নয়নে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।
বৈঠক শেষে এফএএ–এর প্রশাসক মাইক হোয়াইটেকার জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি প্রতি সপ্তাহেই বোয়িংয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসবেন।
উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বোয়িংকে যে বিধি নিষেধ দেওয়া হয়েছে তা কবে নাগাদ উঠবে তার সুস্পষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেন নি হোয়াইটেকার। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেও এটি সম্ভব হবে।’
বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভ কালাহন জানান, যে পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে তার অনেকগুলোই এরই মধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বোয়িংয়ের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
গত জানুয়ারিতে একটি ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজের দরজায় বিস্ফোরণের পর থেকে বেশ চাপে আছে বোয়িং। অবশ্য নিরাপত্তা প্রশ্নে বোয়িংয়ের জন্য এমন পরিস্থিতি নতুন কিছু নয়। গত প্রায় ৫ বছর ধরেই এই মডেলের উড়োজাহাজগুলো নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় ভুগছে। এর মধ্যে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের দুটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৩৪৬ জন মারা যান। এ সময় প্রায় ২০ মাস বোয়িংয়ে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া এই মডেলের উড়োজাহাজ সিরিজটি গ্রাউন্ডেড ছিল।
করোনা মহামারিও উড়োজাহাজ বিক্রিতে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। এ সময় আকাশপথে যাত্রা মাসের পর মাস প্রায় বন্ধই ছিল। ফলে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ব্যবহারকারী এয়ারলাইনসগুলোকে বেশ লোকসান গুনতে হয়েছে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান নির্বাহী ডেভ কালাহন। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের উড়োজাহাজের উৎপাদন কমিয়েছে বোয়িং।
২০১৯ সাল থেকে এই বছরের শুরু পর্যন্ত বোয়িংয়ের মোট লোকসানের পরিমাণ প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দর কমেছে প্রায় ২৮ শতাংশ।
বোয়িংয়ের ঝুঁলিতে এখনো ৫ হাজার ৬০০টির বেশি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ রয়েছে। যেগুলোর সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৫২৯ বিলিয়ন ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উড়োজাহাজের মান নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে রাতারাতি এগুলো তৈরি করে লাভে ফিরতে পারছে না বোয়িং।


বোয়িং থেকে মুখ ফেরাল সৌদিয়া এয়ারলাইনস!
বোয়িং উড়োজাহাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা জশুয়া মারা গেছেন 
