অবশেষে দোষ স্বীকার করলেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। আজ বুধবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নর্দান মারিয়ানা আইল্যান্ডসের একটি আদালতে হাজির হয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের ষড়যন্ত্রে সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিজের দোষ স্বীকারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর চূড়ান্তভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন অ্যাসাঞ্জ।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ মার্কিন আদালতে হাজির হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি আইন লঙ্ঘনের দোষ স্বীকার করবেন—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন চুক্তিতে তিনি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন বলে গতকাল মঙ্গলবারই খবর প্রকাশিত হয়। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁসের যে ফৌজদারি অভিযোগ অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, আদালতে তিনি তা স্বীকার করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের নথি থেকে জানা যায়, ৫২ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর গোপন নথিপত্র ও কূটনৈতিক বার্তা ফাঁসের অভিযোগে একক অপরাধী হিসেবে দোষ স্বীকার করতে রাজি হয়েছেন।
দোষ স্বীকার করতে রাজি হওয়ার পর স্থানীয় সোমবার যুক্তরাজ্যের বেলামার্শ কারাগার থেকে ছাড়া পান অ্যাসাঞ্জ। এরপর তিনি প্রশান্ত মহাসাগরের নর্দান মারিয়ানা আইল্যান্ডসে উদ্দেশে পাড়ি দেন। আজ সকালের দ্বীপটিতে অবস্থিত মার্কিন আদালতে পৌঁছান তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারকেরা শুনানি শেষে আজ অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করবেন। তাঁর পাঁচ বছর দুই মাস কারাদণ্ডের সাজা হতে পারে।
তবে এরই মধ্যে তিনি যেহেতু যুক্তরাজ্যের কারাগারে প্রায় একই সময় ধরে কারাভোগ করেছেন, তাই নতুন করে তাঁকে আর কারাগারে যেতে হবে না। মার্কিন বিচার বিভাগের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, ব্রিটিশ কারাগারে থাকা ওই সময়কে তাঁর সাজাভোগের সময় হিসেবে ধরা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর গোপন নথিপত্র ও কূটনৈতিক বার্তা ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা হয়। তখন থেকেই অ্যাসাঞ্জকে বিচারের মুখোমুখি করতে মরিয়া ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উভয় দেশ।
২০২১ সালে লন্ডনের ওল্ড বেইলি কোর্টে নির্দেশ দেওয়া হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা যাবে না অ্যাসাঞ্জকে। কিন্তু পরের বছরই আকস্মিকভাবে তার প্রত্যর্পণের অনুমোদন দেয় ব্রিটিশ সরকার।
একটানা ১৪ বছর ধরে টানাপোড়েনের পরে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলেন অ্যাসাঞ্জ। তবে প্রত্যর্পণ নয়, আত্মসমর্পণের কারণে ফিরেছেন তিনি।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ২০০৬ সালে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১০ সালে উইকিলিকস থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বহু গোপন নথি প্রকাশ করে দেন তিনি। এতে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ গোপন সামরিক-কূটনৈতিক নথি প্রকাশ্য হয়ে পড়ে। এরপর সারা বিশ্বে শোরগোল পড়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়েন অ্যাসাঞ্জ। তাঁর বিরুদ্ধে ১৮টি মামলার তদন্ত শুরু করে মার্কিন বিচার বিভাগ।
তখন সুইডেনে ছিলেন অ্যাসাঞ্জ। সেখান থেকে লন্ডনে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দুই বছর আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর ২০১২ সালে ইকুয়েডরের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন।
তার পর থেকেই লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসে ছিলেন অ্যাসাঞ্জ। অবশেষে ইকুয়েডরে তাঁর নাগরিকত্বের মেয়াদ শেষ হলে, ২০১৯ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে ভরে ব্রিটিশ পুলিশ।
দীর্ঘ পাঁচ বছর ব্রিটিশ কারাগারে সাজা ভোগের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে উইকিলিকস জানিয়েছে, আজ বুধবার শুনানি শেষে নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন অ্যাসাঞ্জ।



