নির্বাচনী সমাবেশে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলা চালানো ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। ওই যুবকের নাম থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস (২০)। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে এফবিআই তথ্য জানায়।
স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হামলার শিকার হন ট্রাম্প। কানে গুলি লেগে রক্তাক্ত হলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি। তবে এতে প্রাণ গেছে বন্দুকধারীসহ দুজনের। পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ভোটার রেকর্ডের তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলকারী হিসেবে শনাক্ত ক্রুকস ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অনুসারী এবং রেজিস্টার্ড ভোটার।
হামলার পর এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছিলেন, হামলাকারীর পরিচত শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পরই তা প্রকাশ করা হবে।
এ হামলার পর ট্রাম্পকে তাঁর মোবাইল ফোন নম্বরে ফোন করে খোঁজ নেন বাইডেন। বিষয়টি সিবিএস নিউজকে হোয়াইট হাউসের সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গভীর রাতে ফোন করে বাইডেন ট্রাম্পের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। তবে কী বিষয়ে কথা হয়েছে বিস্তারিত জানা যায়নি।
হামলার পর দেওয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘আমেরিকায় এ ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই। পেনসিলভেনিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমাবেশে গুলি চালানোর বিষয়ে আমাকে ব্রিফ করা হয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ যে, তিনি নিরাপদে আছেন এবং ভালো আছেন।’
হামলার পর দেওয়া প্রথম বক্তব্যে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিক্রেট সার্ভিস ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য তাদের ধন্যবাদ। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
বিবিসিকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ট্রাম্প যেখানে সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তার পাশে একতলা ভবনের ছাদ থেকে কেউ একজন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। তিনি বলেন, ‘একটি রাইফেল নিয়ে এক ব্যক্তিকে ছাদে উঠতে দেখি। এ সময় বিষয়টি আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জানানোর চেষ্টা করি। এর পরপরই বন্দুকধারী গুলি ছোড়েন।’



