পর্দায় উত্তম-সুচিত্রা মানেই দর্শকের হৃদয়ে আলোড়ন। কখনো বিষাদ, কখনো হাসি। ‘সপ্তপদী’, ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ থেকে শুরু করে ‘হারানো সুর’, ‘প্রিয় বান্ধবী’র মতো অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছেন তাঁরা। কেউ কেউ বলতেন, তাঁদের অনস্ক্রিন রোমান্সের ছোঁয়া লেগেছিল অফস্ক্রিনেও। তবে এ নিয়ে কখনোই তাঁরা সেভাবে কিছু বলেননি। বর্তমানে দুজনেই প্রয়াত। তবু টলিউডে কান পাতলেই শোনা যায় তাঁদের নানান কাহিনী।
১৯৮০ সালের এই দিনে (২৪ জুলাই) আচমকাই মৃত্যুবরণ করেন বাংলার ‘মহানায়ক’। তাঁর অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারেননি ভক্তরা। এভাবে সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি চলে যাবেন তা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করা যায়নি। মৃত্যুর ঠিক এক সপ্তাহ আগে সুচিত্রা সেনকে ফোন করে একটি কথা বলেছিলেন অভিনেতা। যদিও তাঁর সেই ইচ্ছে পূরণ করতে পারেননি ‘মহানায়িকা’।

শোনা যায়, সুচিত্রার ‘আলো আমার আলো’ সিনেমাটি টিভি পর্দায় দেখেছিলেন উত্তম কুমার। যেখানে অভিনেত্রীর তুখোড় অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। ‘মহানায়িকা’র সঙ্গে দেখা করতেও চেয়েছিলেন। তবে সুচিত্রা সেন তখন ইন্ডাস্ট্রির ব্যস্ততম অভিনেত্রীদের একজন। তিনি জানিয়েছিলেন, পরে কখনো উত্তমের সঙ্গে দেখা করবেন।
যদিও সেই ‘পরে’ আর কখনও আসেনি। কারণ এর আগেই হঠাৎ না ফেরার দেশে পাড়ি দেন মহানায়ক। শোনা যায়, উত্তম কুমারের মৃত্যুসংবাদ শোনার পর তা সহ্য করতে পারেননি অভিনেত্রী। ভেবেছিলেন শেষ বিদায়ে যাবেন না! যদিও উত্তম কুমারের বাড়ি থেকে ফোন পাওয়ার পর সানগ্লাসে চোখ ঢেকে শেষবারের মতো অভিনেতাকে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি।
কাঁদতে কাঁদতে সেদিন সুচিত্রা বলেছিলেন, ‘আমি হেরে গেলাম উত্তম।’
এদিকে, উত্তমের মৃত্যুর পর নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন সুচিত্রা সেন। কারও কারও বিশ্বাস, মহানায়কের মৃত্যু অভিনেত্রীকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে তিনি নিজেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে সরিয়ে নেন। অভিনেত্রী নাকি এও বলেছিলেন, ‘উত্তম নেই, আমার সকলের সামনে যাওয়ারও কোনো মানে নেই।’


জীবন্ত হয়ে পর্দায় ফিরলেন উত্তম কুমার, ট্রেলার দেখে অমিতাভও মুগ্ধ
