ডেঙ্গু জ্বর এডিস মশার কামড়ে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। ডেঙ্গুর জ্বর নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আতঙ্ক রয়েছে। কারণ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন, হাসপাতালে ভর্তি হন। এবং ক্ষেত্র বিশেষে মারাও যাচ্ছেন।
এ বছরও বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এই ভাইরাস এডিস মশার দ্বারা এক ব্যক্তি থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায়। ডেঙ্গুতে রোগী জ্ঞান হারাতে অথবা জ্ঞান হারানোর পর্যায়ে চলে যেতে পারে। সে অবস্থাকে ডেঙ্গু শক অবস্থা বলা হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বর দুই ধরনের। একটা হচ্ছে ক্ল্যাসিক্যাল ডেঙ্গু বা সাধারণ ডেঙ্গু এবং অন্যটি হলো হেমোরেজিক বা রক্তক্ষরা ডেঙ্গু। ডেঙ্গুর প্রধান দুটি লক্ষণ হচ্ছে- তীব্র জ্বর এবং শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। আবার এডিস মশা দুই ধরনের- এডিস ইজিপ্টাই ও এডিস অ্যালবোপিকটাস। এডিস ইজিপ্টাই লোকালয়ে মানুষের বাড়িঘরে থাকে। এ জন্য এটিকে আবাসিক এডিস মশা বলা যেতে পারে। ঘর বা বাড়ির ভেতরে বিভিন্নভাবে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। অন্যদিকে এডিস অ্যালবোপিকটাস বা বুনো এডিস মশা ঝোপঝাড়ে থাকে। গাছের গর্তে, দুই ডালের মাঝের জায়গায় বা গাছের বড় পাতায় জমে থাকা পানিতে বুনো এডিস বংশবিস্তার করে।’
লক্ষণ
১. তীব্র জ্বর, মাথা ও শরীরে ব্যথা।
২. ডেঙ্গুতে শরীরে লাল ফুসকুড়ি হতে পারে।
৩. বমি ও বমি-বমি ভাব।
৪. খাবারে অরুচিসহ আরও কিছু উপসর্গ ও লক্ষণ থাকে।
চিকিৎসক ডা. লেলিন চৌধুরী মনে করেন, ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি রোগ নয়। সারা বছর কমবেশি ডেঙ্গুর প্রকোপ লক্ষ্য করা যায়। যেসব জায়গায় পানি জমে থাকে, সেসব স্থানে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটতে থাকে। আগে বলা হতো কেবল জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পারে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, জমে থাকা পরিষ্কার ও ময়লা দুই ধরনের পানিতেই এখনকার এডিস মশা ডিম পাড়তে সক্ষম। এডিস মশার কামড়ানোর সময়ও বদলে গেছে। আগে এই মশা শুধু সকাল ও সন্ধ্যাবেলা মানুষকে কামড়াতো। কিন্তু এখন দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টাই কামড়ায়। তাই ডেঙ্গু থেকে দূরে থাকতে সর্তকতার কোনো বিকল্প নেই। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরবাড়ির আশপাশে ডাবের খোল, ক্যান, টায়ার, ফুলের টবে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে। ঘুমানেরা সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে।


ডেঙ্গু জ্বরে যা জানা খুবই প্রয়োজন
ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু, রোগী বেড়েছে তিনগুণ
