শিশুদের ত্বক বড়দের মতো হয় না। তাদের ত্বক থাকে খুবই সংবেদনশীল। শিশুকে গোসল করানো নিয়ে তাই অনেক অভিভাবকই দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন। বিশেষ করে নবজাতকের গোসলে বাড়তি সতর্কতার প্রসঙ্গে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন শিশুকে গোসল করানোর কোনোই দরকার নেই। শিশুর গায়ে ময়লা লেগে থাকলে, ঘামে গা ভিজে থাকলে, গায়ের সঙ্গে মলমূত্র লেপ্টে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে পরিষ্কার করে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে সব সময় পুরো গোসলের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
আবার বেড়াতে গিয়ে অনেকেই শিশুকে সুইমিংপুলে খেলতে নামায়। এরপর আর কলের পানি দিয়ে ধুয়ে দেয় না। এটি শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। সুইমিংপুলের পানিতে ক্লোরিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে। পুল থেকে উঠিয়ে তাই শিশুকে গোসল করিয়ে দিতে হবে।

অনেক ক্ষেত্রে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার জন্য ডাক্তারেরা শিশুকে প্রতিদিন গোসলের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে শিশুকে গোসল করানোর আগে আমাদের নিজেদের হাত পরিষ্কার আছে কিনা, তা লক্ষ্য রাখা উচিত। নইলে সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে যায়।
কিন্তু শিশুর বেলায় কেন প্রতিদিন গোসল করাতে মানা করেন বিশেষজ্ঞরা?
আসলে অতিরিক্ত গোসলের ফলে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায় এবং শরীর শুষ্ক, খসখসে হয়ে যায়। আমাদের ত্বকে প্রাকৃতিকভাবেই এক ধরনের প্রটেকটিভ অয়েল এবং ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই দুইয়ের সন্নিবেশ আমাদেরকে সুস্থ ও নিরাপদ থাকতে সাহায্য করে। অথচ প্রতিদিন গোসলের ফলে এসব ধুয়ে ফেলা যেতে পারে।
যদি আপনার শিশুকে বাইরে থেকে দেখতে পরিষ্কার লাগে, গায়ে ময়লা বা ঘামের দুর্গন্ধ না থাকে, কাদামাটি বা মলমূত্র লেগে না থাকে, তাহলে সপ্তাহে দুই বা তিনবার গোসলই যথেষ্ট। যেসব দিনে শিশুকে গোসল করাবেন না, সেসব দিনে তার পুরো গা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে পারেন। বিশেষ করে মুখ, কনুই, কুঁচকির ভাঁজ এবং কোথাও ময়লা লেগে থাকলে তা ভালো করে মুছে পরিষ্কার করে দিন।
অন্যদিকে যেসব শিশু অনেক বেশি খেলাধুলা করে থাকে এবং যাদের বয়স টিনেজ’র কাছাকাছি তাদের অ্যাকটিভিটি লেভেল এবং ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে প্রতিদিনই গোসল করানো উচিত। তবে ঠান্ডা পড়লে তারাও মুখ ধুয়ে সাবানযুক্ত ভেজা কাপড় দিয়ে কুঁচকি এবং বগল মুছে নিতে পারে। এক্ষেত্রে মাথা ধোয়ানোর প্রয়োজন নেই।

শিশুকে গোসলের সময় যা মনে রাখবেন
১. শিশুকে কখনোই অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করাবেন না। বরং হালকা গরম পানি বেছে নিন।
২. লম্বা সময় ধরে শিশুকে গোসল করাতে যাবেন না। মোটামুটি পরিষ্কার করানোর কাজ হয়ে গেলেই গোসল থেকে উঠিয়ে নিন।
৩. অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান এড়িয়ে চলুন। একেবারে মৃদু, আনসেন্টেড (সুঘ্রাণহীন) সাবান এবং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
৪. শিশুদেরকে কখনোই গোসলখানায় একা ছেড়ে দেবেন না।
৫. নবজাতকের পাশাপাশি ছোট শিশুদের গোসলের সময় সামনে থাকুন।
৬. তোয়ালে দিয়ে জোরে জোরে না ঘষে হালকাভাবে শিশুর গা মুছিয়ে নিন। এরপর শিশুর ত্বক উপযোগী হালকা কোনো ময়েশ্চারাইজার মাখিয়ে দিন।
৭. শিশুর যদি চুলকানি, একজিমা বা ত্বকের কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিবেন।
তথ্যসূত্র: হার্ভার্ড হেলথ


শিশুকে চকলেট দিচ্ছেন? একটু ভাবুন...
শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব অপরিসীম
শিশু পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেলে যা করবেন
