দল বলে দিচ্ছে–৪ বছর কেমন খেলবেন ট্রাম্প

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ১০:০১ পিএম

বচন একই। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট আগেইন’। সাথে আছে–আমেরিকা ফার্স্ট নীতি। ফলে নতুন কিছু তো ঘটবার নয়। তবুও মার্কিন‑অমার্কিন নির্বিশেষে সবাই তাকিয়ে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন প্রশাসনের দিকে। নানাজন নানা আলোচনা সামনে আনছে। একগুচ্ছ ধারণাপত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে চোখের সামনে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ব্যক্তি হিসেবে তাঁর মতো ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ নয়। সেই একই তো বাণিজ্য‑ব্যয় সংকোচন‑শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী এবং অতি অবশ্যই চীন‑বিরোধী মনোভাব। নতুন কী তাহলে?

না তেমন নতুন কিছু নয়। তবে ট্রাম্পের মগজ বলে খ্যাত স্টিভ ব্যাননের ভাষ্যকে আমলে নিলে একটু তাকাতেই হয় তাঁর আসন্ন প্রশাসনের দিকে। বিশেষত–এবার কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, কথাটির অর্থ বুঝতে হলেও এই দলের দিকে তাকাতে হবে। কারণ, দিন শেষে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রশাসনের কার্যাবলি ট্রাম্প একা সম্পন্ন করবেন না। বরং মুখ্যত তাঁর দলই করবে। এই দলের ব্যক্তিদের মনোভাব অনেকাংশেই ট্রাম্প প্রশাসনের অভিমুখ ঠিক করবে। কারণ, এরাই আসন্ন ট্রাম্প প্রশাসনের চোখ, কান ইত্যাদি হিসেবে কাজ করবে। এখন পর্যন্ত কারা যুক্ত হয়েছেন এই আসন্ন প্রশাসনে? আর কারাইবা যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছেন? তাঁদের নিয়ে গড়া আসন্ন প্রশাসনের চরিত্র কেমন হতে পারে?

তুলসি গ্যাবার্ড। ছবি: উইকিপিডিয়াজাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড
নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর আসন্ন প্রশাসনে জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের দায়িত্বের জন্য তুলসি গ্যাবার্ডের নাম প্রস্তাব করেছেন। হাওয়াই থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেটিক দলের সাবেক এই কংগ্রেসওম্যান কাজ করেছেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতাও ঘোষণাও করেছিলেন সাবেক এই রিজার্ভ সেনা কর্মকর্তা। কিন্তু গত কয়েক বছরে ঠিক ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে রিপাবলিকান বনে যান তিনি। তাও যেনতেন নন, রীতিমতো ট্রাম্পের আস্থা অর্জনের মতো কট্টর রিপাবলিকান।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এবারের নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত ছিলেন তুলসি গ্যাবার্ড। বর্তমানে তিনি বাইডেন‑ট্রাম্প ক্ষমতা হস্তান্তর কার্যক্রমে রিপাবলিকান দলের হয়ে কাজ করছেন। সাধারণত প্রেসিডেন্টশিয়াল ট্রানজিশন টিমে ভীষণ আস্থাভাজনদেরই জায়গা দেওয়া হয়। তিনি কতটা আস্থাভাজন, তা তাঁর জন্য প্রস্তাবিত পদই বলে দিচ্ছে।

সমালোচকেরা বলছেন, তুলসি গ্যাবার্ডের কোনো গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা নেই। তবুও তিনি এ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ইচ্ছায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, মার্কিন গোয়েন্দা ও গুপ্তচরদের দৃষ্টিতে তুলসির নিয়োগ একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, ব্যক্তিগতভাবে তিনি রাশিয়া ও সিরিয়ার বিষয়ে দুর্বল। সেক্ষেত্রে তাঁর এই অবস্থান আমেরিকার পশ্চিমা মিত্রদের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে বারিত করতে পারে। বিশেষত ‘পঞ্চচোখ’ হিসেবে পরিচিত আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড–এই দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় অন্তত শুরুর বছরে কমার আশঙ্কা রয়েছে।

পিট হেগসেথ। ছবি: উইকিপিডিয়াপ্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ
আসন্ন প্রশাসনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে ট্রাম্পের মনোনয়ন পেয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী পিট হেগসেথ। সাবেক এই মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ। বিশেষত ফক্স নিউজের সঞ্চালক থাকা অবস্থায় তাঁদের মধ্যে হৃদ্যতা গড়ে ওঠে বলে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। মার্কিন যুদ্ধফেরত সেনা কর্মকর্তাদের দুটি সংস্থার সাথে তিনি যুক্ত।

মিনেসোটা থেকে এর আগে একবার সিনেটর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এরপর অবশ্য আর কখনো সরকারি পদের জন্য লড়েননি। এবার সেই তিনিই মনোনয়ন পেলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদের জন্য। এর কারণও পাওয়া যায় ট্রাম্পের কথায়। ট্রাম্পের ভাষায় পিট হেগসেথ ‘কঠোর, চৌকষ ও আমেরিকা ফার্স্ট নীতিতে একজন সত্যিকারের আস্থাশীল’ ব্যক্তি। তাঁর নেতৃত্বে মার্কিন শত্রুদের ত্রাহী মধুসূদন দশা হবে এবং আমেরিকা কখনো নত হবে না বলেই মনে করেন ট্রাম্প।

শেষ পর্যন্ত সিনেটের শুনানি পেরিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারলে পিট হেগসেথ মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। সামরিক বাহিনীতে তিনি সাম্য ও বৈচিত্র্য ইত্যাদি দেখতে চান না। পিট এ বিষয়ে অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম বদলে ‘যুদ্ধ মন্ত্রণালয়’ রাখার প্রস্তাবও তিনি আগেই করে রেখেছেন। আর যুদ্ধক্ষেত্রে নারী সেনাদের উপস্থিতির সুস্পষ্ট বিপক্ষে তাঁর অবস্থান।

সব মিলিয়ে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধফেরত পিটের নিয়োগ মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরে রক্ষণশীলতার চর্চা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লষকেরা।

মার্কো রুবিও। ছবি: এক্স থেকে নেওয়াপররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মার্কো রুবিওর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। চীনবিরোধী হিসেবে পরিচিত রুবিওর এই মনোনয়ন নিয়ে অবশ্য কারও মধ্যে তেমন বিস্ময় কাজ করেনি। কারণ, ২০২০ সালে পুর্নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ার পর যে কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ট্রাম্পের সঙ্গে ছায়ার মতো লেগে ছিলেন রুবিও তাঁদের মধ্যে অন্যতম। আর তাঁর কূটনৈতিক পরামর্শ ট্রাম্পের ওপর প্রভাব রাখে বলেও একটা ভাষ্য আগে থেকেই ছিল।

ফ্লোরিডার এই রিপাবলিকান সিনেটর ২০১৬ সালের নির্বাচনে অবশ্য প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নের দৌড়ে ছিলেন। পরে রাজনৈতিক সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে মৈত্রিতে পরিণত করেন। ট্রাম্পের আগের প্রশাসনে তিনি সিনেটের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং গোয়েন্দাবিষয়ক সিনেট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। রুবিওকে বিশেষভাবে চীনবিরোধী হিসেবেই পরিচিত।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, রুবিও ও ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি কিছুটা আলাদা। রুবিও যেখানে অন্য দেশের সাথে সংঘাত নিরসনে পেশি শক্তিকে প্রাধান্য দেন, সেখানে ট্রাম্প সামরিক অভিযান চালানোর বিরুদ্ধে। সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুজনের মতের ভিন্নতা দেখা দিয়েছিল। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি শুরুতে আলাদা ছিল। রুবিও ইউক্রেনে রুশ হামলার প্রেক্ষাপটে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘খুনি’ আখ্যা দিয়েছিলেন। যদিও পরে ইউক্রেনে মার্কিন সহায়তা প্যাকেজের বিল সিনেটে উঠলে যে ১৫ রিপাবলিকান নেতা এর বিরুদ্ধে ভোট দেন, তাঁদের একজন মার্কো রুবিও। ট্রাম্পের সাথে ঘনিষ্ঠতার স্বার্থে প্রতিনিয়ত তিনি নিজের অবস্থান বদলেছেন।

রাশিয়া, ইউক্রেনসহ নানা ইস্যুতে হয়তো নিজের অবস্থান তাঁকে এবার বদলাতে হতে পারে। তবে ইসরায়েল প্রশ্নে যেহেতু ট্রাম্প‑রুবিও একই অবস্থানে আছেন, সেহেতু তা নিয়ে তেমন হল্লা হয়তো হবে না।

ম্যাট গ্যাটজ। ছবি: রয়টার্সঅ্যাটর্নি জেনারেল ম্যাট গ্যাটজ
অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ম্যাট গ্যাটজের মনোনয়নকেও দেখা হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে। মার্কিন কাঠামো অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল ম্যাট গ্যাটজই মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়ের হর্তাকর্তা হবেন, যদি সিনেটে তাঁর মনোনয়ন টিকে যায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দুই আলোচিত অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন জেফ সেশনস ও উইলিয়াম বার। দুজনের ওপরই ভীষণ বিরক্ত ছিলেন ট্রাম্প। এবার তাই কোনো ঝুঁকি তিনি নেননি। বেছে নিয়েছেন একান্ত বাধ্য ম্যাট গ্যাটজকে।

ম্যাট ২০১৭ সাল থেকে কংগ্রেস সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। স্বঘোষিত অতি রক্ষণশীল ম্যাট বিভিন্ন সময় বিতর্কিত মন্তব্য করার ক্ষেত্রে বসের মতোই সিদ্ধহস্ত। ফলে প্রচলিত ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের অনেকেই তাঁকে ঠিক পছন্দ করেন না।

শেষ পর্যন্ত সিনেটের শুনানি পেরিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল হতে পারলে গর্ভপাতসম্পর্কিত আইনসহ নানা আইনের ওপরই খড়্গ নামতে পারে। অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর মতো বিষয়গুলো ট্রাম্পের জন্য বিচার বিভাগীয় জায়গা থেকে সহজ করতে তিনি তৎপর থাকবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

মাইকেল ওয়লটজে। ছবি: রয়টার্সজাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে ট্রাম্প সুপারিশ করেছেন ফ্লোরিডার কংগ্রেসম্যান মাইকেল ওয়লটজের নাম। মার্কিন সেনাবাহিনীতে ২৭ বছর কাজ করা এই কর্মকর্তার মনোনয়নের ঘোষণায় তাঁকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি।
ওয়ালটজের মনোনয়নের পেছনে ‘চীন, রাশিয়া, ইরান ও বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের মতো হুমকি’ মোকাবিলায় তাঁর দক্ষতার প্রসঙ্গ টেনেছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রশাসনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। এই দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য বহিঃশত্রু সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত করেন। সীমান্ত থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রনীতির গলিঘুপচিতে কী নীতি নেওয়া হবে, তার অনেক কিছুই তাঁর সুপারিশ ও পরামর্শের ওপর নির্ভর করে।

চীনবিরোধী হিসেবে পরিচিত ওয়ালটজকে ট্রাম্প বর্ণনা করেছেন ‘আমেরিকা ফার্স্ট পররাষ্ট্রনীতি’ এগিয়ে নেওয়ার অগ্রসৈনিক হিসেবে। এই আমেরিকা ফার্স্ট নীতি আসলে কী বলে? এই নীতি বলে বিশেষত বাণিজ্যিকভাবে আমেরিকা তার নানা সম্পর্ককে নবায়ন করবে। ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধে ওয়ালটজের ভূমিকা বা অবস্থান মার্কিন লাভকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্রিস্টি নোয়েম। ছবি: এক্স থেকে নেওয়াহোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে ক্রিস্টি নোয়েম
আসন্ন প্রশাসনে সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হুমকি, জরুরি সেবা, উদ্ধারকাজ থেকে শুরু করে যাবতীয় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব ক্রিস্টি নোয়েমের ঘাড়ে দিতে চাইছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলে রাখা ভালো এই বিভাগের হাতেই আছে বিখ্যাত আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, কোস্ট গার্ডের মতো বিভাগগুলো।

নতুন এই দায়িত্বে নোয়েমকে কাজ করতে হবে টম হোম্যান ও স্টিফেন মিলারের সঙ্গে। শেষোক্ত দুজন যথাক্রমে ‘সীমান্ত জার’ ও অভিবাসন বিষয়ক ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের নীতি প্রণয়নে যুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে টম হোম্যান ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আইস প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর তৎপরতায় ওই মেয়াদে আমেরিকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল ১৫ লাখ অবৈধ অভিবাসী। গত জুলাইয়েই তিনি বলে রেখেছেন যে, ‘নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হবেন। এবং আমি ফের আসছি। আমেরিকা থেকে অবৈধদের বিতাড়নে সবচেয়ে বড় বাহিনী দেখবে সবাই।’

২০১৮ থেকে সাউথ ডাকোটা থেকে নির্বাচিত এই কংগ্রেসওম্যান এবারের নির্বাচনের প্রচারে শুরুতে ট্রাম্পের রানিংমেট ছিলেন।

ইলন মাস্ক ও বিবেক রামাস্বামী। ছবি: ফক্স নিউজের সৌজন্যেইলন মাস্ক ও বিবেক রামাস্বামী
নতুন প্রস্তাবিত বিভাগ ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সির (ডগ) নেতৃত্ব দিতে ডাকা হয়েছে ইলন মাস্ক ও বিবেক রামাস্বামীকে। এর মধ্যে মাস্ককে সবাই চেনে তাঁর স্পেস এক্স, এক্স, টেসলার মধ্য দিয়ে। আর বিবেক মূলত একজন ওষুধ ব্যবসায়ী।

এ দুজনের নজর থাকবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, ব্যয় সংকোচন, ব্যবসাসংক্রান্ত অত্যধিক নীতি ও বিধির বেড়া ভাঙা, সরকারি ব্যয়ে অপচয় কমানো এবং ফেডারেল বিভিন্ন সংস্থাকে পুনর্গঠন করা। অত্যধিক ব্যয় কমানো বলতে, মনে রাখা ভালো ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে দরিদ্রদের জন্য ফুড স্ট্যাম্পকেও এমনকি অপব্যয় হিসেবে দেখেছিলেন।

এলিস স্টেফানিক। ছবি: রয়টার্সজাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত এলিস স্টেফানিক
জাতিসংঘে আমেরিকার দূত হিসেবে এলিস স্টেফানিকের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। নিউইয়র্কের এই কংগ্রেসওম্যান ২০১৯ সালে ট্রাম্পের অভিশংসন শুনানির সময় প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন। এর পর আমেরিকার ‘ক্রমবর্ধমান অ্যান্টি‑সেমেটিজম’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেও দেশটির জাতীয় শিরোনাম হয়েছিলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিতে এলিস একজন ভীষণ কঠোর ও চৌকস ‘আমেরিকা ফার্স্ট ফাইটার’। অবশ্য জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে এলিসের এই মনোনয়ন সিনেটের শুনানিতে পাস হতে হবে। তবেই তিনি পদটিতে যোগ দিতে পারবেন। যদিও ট্রাম্প এরই মধ্যে এই রেওয়াজ ভেঙে এলিসকে সরাসরি নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন।

লি জেলডিন। ছবি: রয়টার্সলি জেলডিন
পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধান হিসেবে ট্রাম্পের পছন্দ লি জেলডিনকে। সিনেটে শেষ পর্যন্ত তাঁর এই মনোনয়ন টিকলে বলা যায় টেকসই অর্থনীতির যে চাপ, তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে আমেরিকা। কারণ, পরিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নেই তো টেকসই জ্বালানি ও অর্থনীতির ধারণা। আর জেলডিনের দৃষ্টিতে আমেরিকার উচিত জ্বালানি খাতে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারে কাজ করা।

জেলডিনকে বেছে নেওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মিলে যাওয়া যেমন, তেমনি কাজ করেছে ব্যক্তিগত সম্পর্কও। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতির যে অভিযোগ ট্রাম্প তুলেছিলেন, তার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে সই করা ১২৬ রিপাবলিকানের একজন ছিলেন এই লি জেলডিন।

২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস সদস্য থাকাকালে পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক বেশ কিছু নীতির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া জেলডিনই শেষ পর্যন্ত পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধান হলে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও উষ্ণায়ন রোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলোতে মার্কিন অংশীদারত্ব কমার আশঙ্কা প্রবল।

সুসি ইউলস। ছবি: রয়টার্সচিফ অব স্টাফ সুসি ইউলস
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এবারের নির্বাচনে বিজয়ে যে দুজন ব্যক্তির অবদান সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যে একজন এই সুসি উইলস। ফলে তাঁর এই নিয়োগ প্রস্তাবে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।

সুসি কয়েক দশক ধরেই রিপাবলিকান রাজনীতির সাথে যুক্ত। ৬৭ বছর বয়সী এই রাজনীতিক ১৯৮০ সালে রোনাল্ড রিগানের নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নিয়েছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ফ্লোরিডার গভর্নর নির্বাচনে রিক স্কট ও রন ডিসান্টিসকে বিজয়ী করে আনার ক্ষেত্রেও।

হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে সুসি উইলিস মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করবেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেওয়া এবং ওয়েস্ট উইংয়ের যাবতীয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে তিনি থাকবেন। এর আগের মেয়াদে থাকা ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ পদে ব্যক্তিবর্গ শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনায় কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন। সুসির ক্ষেত্রে এই সংকট থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁর ডেপুটি হিসেবে থাকবেন স্টিফেন মিলার, ড্যান স্ক্যাভিনো, জেমস ব্লেয়ার ও টেইলর বুডোউইচ।

জন র‍্যাটক্লিফ। ছবি: রয়টার্সগোয়েন্দা দপ্তর
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএর) থেকে শুরু করে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর খোলনলচে বদলে দেবেন ট্রাম্প। নবনির্বাচিত এই প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে সিআইএর প্রধান হিসেবে জন র‍্যাটক্লিফের নাম ঘোষণা করেছেন। তাঁর আগের মেয়াদে জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের সাবেক এই পরিচালককেই তিনি বেছে নিয়েছেন।

একইসঙ্গে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন যে, এফবিআইয়ের বর্তমান পরিচালক ক্রিস রেকে তিনি বরখাস্ত করবেন। যদিও ২০১৭ সালে ট্রাম্পই ক্রিস রেকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। এই পদে জেফরি জেনসেন রয়েছেন বিবেচনায়।

মাইক হুকাবি। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়াইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি
যেকোনো মার্কিন প্রশাসনের ক্ষেত্রেই ইসরায়েল খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। আসন্ন ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটছে না। এরই মধ্যে ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সম্ভাব্য নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন। তিনি আর কেউ নন মাইক হুকাবি। হুকাবির যোগ্যতা হিসেবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘তিনি (মাইক হুকাবি) ইসরায়েল ও এর জনগণকে ভালোবাসেন। একইভাবে ইসরায়েলের জনগণও তাঁকে ভালোবাসে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মাইক অক্লান্ত পরিশ্রম করবেন।’

হুকাবি পরিবারের সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্কটা অবশ্য পুরোনো। বর্তমানে আরাকানসাসের গভর্নর মাইক হুকাবির মেয়ে সারাহ হুকাবি স্যান্ডার্স গত ট্রাম্প প্রশাসনে হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব হিসেবে কাজ করেছেন।

এই মাইক হুকাবির ফিলিস্তিন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিটি কী? দেখাই যাক। ২০১৫ সালে মাইক হুকাবি এ বিষয়ে পশ্চিম তীরে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘এই ভূমি ঐতিহাসিকভাবে ইহুদিদের। এ বিষয়ে আমি এক ধরনের দায়িত্ব বোধ করি।’

এ ছাড়া আছেন স্টিভ উইটকফ। মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ দূত হিসেবে এই আবাসন ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মীকে মনোনয়ন দিয়েছেন ট্রাম্প। গত সেপ্টেম্বরে নির্বাচনী প্রচারকালে হওয়া হামলার সময় থেকেই উইটকফ ট্রাম্পের সঙ্গে রয়েছেন। হোয়াইট হাউসের পরামর্শক হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন উইলিয়াম ম্যাকগিনলি।

তালিকায় রয়েছেন রবার্ট লাইথিজার, যিনি গেল মেয়াদে চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের অগ্রসৈনিক ছিলেন। অবশ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য বিবেচনায় থাকা অন্য নামগুলোর দিকেও তাকাতে হবে। এ তালিকায় আছেন বিলিওনিয়ার বা শতকোটিপতি স্কট বেসেন্ট, জন পলসন, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক প্রধান জে ক্লেটন, ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ল্যারি কুডলো। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এরা প্রত্যেকেই হয় নির্বাচনী প্রচারে টাকা ঢেলেছেন, নয়তো ব্যাপক প্রচার দিয়েছেন।

রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র। ছবি: রয়টার্সস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ট্রাম্পের মনোনয়ন তাঁরই এক সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র। এ নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে ব্যাপক। করোনা মহামারির সময় টিকার বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য খাতে তাঁর কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। এ ক্ষেত্রে সম্ভবত করোনা মহামারির সময় তাঁর অবস্থানই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

সে যাক। মোটাদাগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন প্রশাসনের একটা চেহারা দেখা গেল। এই চেহারায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হলো–চীনবিরোধীদের আধিক্য। অবশ্য আমেরিকার যেকোনো প্রশাসনের জন্যই চীনবিরোধিতা একটা বৈশিষ্ট্য হয়ে থাকবে আগামী অন্তত বেশ কয়েক বছর। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন থেকে প্রশাসনে যে তফাৎটা বড়জোর হতে পারে, তা হলো–একপক্ষ হয়তো ভূরাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থান নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে বাণিজ্য ও সামরিক শক্তি হিসেবে চীনের উত্থানকে মোকাবিলা করতে চায়; আর অন্যপক্ষ চায় শুধু বাণিজ্যের পথ ধরে চীনকে মোকাবিলা করতে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন প্রশাসনে তাঁর মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো–তাঁরা চীনকে বাণিজ্যিক দিক থেকেই মোকাবিলা করতে চান বেশি। আর এ ক্ষেত্রে তাঁদের প্রধান অস্ত্র শুল্ক বা ট্যারিফ।

একইসঙ্গে মনোনয়নগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে, এ ক্ষেত্রে ব্যয়সংকোচন ও রক্ষণশীল নীতির লোকই বেশি। এই ব্যয় সংকোচন নীতি এতটাই যে, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী যেমন ছোট হয়ে আসতে পারে, তেমনি মিত্রের কাতার থেকেও ছিটকে পড়তে পারে ইউরোপের দেশগুলো। অর্থাৎ ইউরোপকে দেওয়া নিরাপত্তা গ্যারান্টির বিনিময় অর্থসহ অনেক কিছু চেয়ে বসতে পারে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি চীনের ওপর আরোপিত শুল্কহার সমভাবে না হলেও কাছাকাছি মানে আরোপ হতে পারে ইউরোপের ওপর। কমতে পারে ন্যাটোকে দেওয়া মার্কিন চাঁদার পরিমাণ। বৈশ্বিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে হোয়াইট হাউস। সমর ব্যয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর বদলে পুরোনো অস্ত্র বিক্রির দিকে বাড়তি মনোযোগ যেতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনের।

এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কিত পরামর্শকদের কাতারে তাকানোর পরামর্শ দিয়েছে ফরেন পলিসি। এ তালিকায় আছেন–এলব্রিজ কলবি, যিনি ওয়াশিংটনকে ইউরোপ, ন্যাটো, রাশিয়া থেকে পুরোপুরি মুখ ঘুরিয়ে চীনের দিকে তাকানোর পরামর্শ দেন এবং যাঁর দৃষ্টিতে ইউরোপ নয়, এশিয়াই হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির ভরকেন্দ্র; ফ্রেড ফ্লিৎজ ও কিথ কেলগ, যিনি ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুততম সময়ে শেষ করার পরিকল্পনা জমা দিয়েছেন এবং যিনি ইসলামোফোবিক হিসেবে ব্যাপক সমালোচনা কুড়িয়েছেন। আছেন রিক গ্রেনেল, যিনি ইরানের সাথে ব্যবসা থাকাকে ইউরোপের কোনো দেশের জন্য, বিশেষত জার্মানির ক্ষেত্রে রীতিমতো অপরাধ হিসেবে গণ্য করেন।

পুরো তালিকা বেশ বড়। তাদের সবারই বিশেষত্ব হলো ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত আমেরিকা ফার্স্ট ইনস্টিটিউটের সাথে তাঁরা যুক্ত এবং প্রজেক্ট ২০২৫‑এর অংশ। তাঁদের প্রত্যেকেরই প্রবণতা হলো–মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে তোয়াজ, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যনীতি দিয়েই আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা এবং চীন প্রশ্নে কট্টর অবস্থান। তাঁরা প্রত্যেকেই আমেরিকাকে ইউরোপ থেকে নজর ঘুরিয়ে এশিয়ার দিকে তাকানোর পরামর্শ দেন। মুক্ত বাণিজ্যের নামে বিভিন্ন দেশকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার বদলে রক্ষণশীল নীতি, অভিবাসনে অতি রক্ষণশীলতা ইত্যাদি ধারণাকে সামনে আনার সুপারিশ করেন। তাঁদের দৃষ্টিতে চীন প্রশ্নে সমগ্র মার্কিন নীতিকে এক জায়গায় আনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ইত্যাদি আনার নামে অপব্যয় রোধকে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটি বলছে, দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি...
হরমুজ প্রণালীতে ধৈর্য্যহারা যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের সৈন্যরা। তারা সংঘাতে লিপ্ত হওয়ায় আরও চড়ছে উত্তেজনার পারদ। ফুটো হয়ে যাচ্ছে শান্তি চুক্তির আশার বেলুন! হরমুজ প্রণালী ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সময় শুরু...
হরমুজ প্রণালীতে ধৈর্যহারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সৈন্যরা। তারা সংঘাতে লিপ্ত হওয়ায় আরও চড়ছে উত্তেজনার পারদ। ফুটো হয়ে যাচ্ছে শান্তি চুক্তির আশার বেলুন! হরমুজ প্রণালী ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সময় শুরু...
প্রায় ছয় দশক পর ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তোষ, নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার লক্ষ্যকে এই...
এক মাস পর পণ্য রপ্তানি আবার কমল। গেল মে মাসে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৭ শতাংশ। বুধবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
এডিসের মারাত্মক ঝুঁকিতে দেশের চার জেলা- ঢাকা, বরিশাল, নরসিংদী ও কক্সবাজার। এখানে ব্রুটো ইনডেক্সে এডিসের লার্ভার ঘনত্ব ৭৬ থেকে ৯৩ পর্যন্ত মিলেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গবেষণায় মিলেছে...
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী কারামুক্ত হয়েছেন। বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের চলচ্চিত্র ‘রইদ’ এবার মুক্তি পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ৬টি শহরে। আগামী ৫ জুন থেকে দেশটির বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী শুরু...
লোডিং...

এলাকার খবর