আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের আচরণ আমাদের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দেয়। তারা হয়তো বন্ধু, আত্মীয় বা সহকর্মী। কিন্তু নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে মন খারাপ, হতাশা ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়। এমন মানুষদেরই বলা হয় ‘টক্সিক’। তাদের থেকে দূরে থাকতে এবং নিজেকে ঠিক রাখতে নিচের এই উপায়গুলো অনুসরণ করতে পারেন।
আগে চেনার চেষ্টা করুন
টক্সিক মানুষ সবসময় সরাসরি খারাপ আচরণ করে না। তারা কথার আড়ালে কটূ মন্তব্য করে। সবসময় নিজেকে বড় করে দেখায়। আর অন্যের সাফল্যে ঈর্ষা করে। যদি দেখেন, কারও সঙ্গে কথা বলার পর আপনি বারবার মন খারাপ বা ক্লান্ত বোধ করছেন। তাহলে বুঝবেন, ওই মানুষটি আপনার মানসিক শক্তি শুষে নিচ্ছে। সেই টক্সিক।
সীমারেখা টানুন
যে সম্পর্ক আপনার শান্তি নষ্ট করে, সেখানে সীমারেখা টানা জরুরি। আপনাকে ‘না’ বলতে শিখতে হবে। সেই সাথে বন্ধ করতে হবে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগও। যদি কেউ আপনার সব কথায় নেতিবাচক মন্তব্য করে, তবে সে টক্সিক। তাকে আপনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন, এমন আচরণ সহ্য করবেন না। এতে বুঝবে, আপনার সঙ্গে সীমা অতিক্রম মোটেও সহজ নয়।
অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা এড়িয়ে চলুন
টক্সিক মানুষরা ইচ্ছে করেই এমন কিছু বলে বা করে যাতে আপনি রেগে যান। অথবা প্রতিক্রিয়া দেখান। তাই যতটা সম্ভব কম কথা বলুন। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, আনন্দের খবর বা ব্যক্তিগত পরিকল্পনা তাদের সঙ্গে শেয়ার করবেন না। এতে নিজের মানসিক শান্তি অক্ষুণ্ণ থাকবে।
শান্ত থাকুন
তাদের সঙ্গে দেখা হলে যতটা সম্ভব সংযত থাকুন। তাদের উস্কানিতে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজেকে শান্ত রাখুন। তাদের আচরণ বা মন্তব্যে প্রভাবিত না হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মনে রাখবেন, আপনার প্রতিক্রিয়াই তাদের শক্তি।
ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখুন
টক্সিক মানুষ সবসময় আপনার ভুল খুঁজে বেড়ায়। তাই তাদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন। ভালো বই পড়ুন, গান শুনুন, প্রকৃতির সান্নিধ্যে যান, প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটান। এই ইতিবাচক অভ্যাসগুলোই আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত রাখবে।
নিজের ভালোলাগাকে প্রাধান্য দিন
আপনার সুখের নিয়ন্ত্রক আপনি নিজেই। অন্য কেউ নয়। তাই এমন সব সম্পর্ক বেছে নিন, যেগুলো আপনাকে শান্তি দেয়, অনুপ্রেরণা দেয়। যেখানেই বিষাক্ততা, সেখান থেকেই দূরে সরে যান।
টক্সিক মানুষদের পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সবসময় সম্ভব নয়। তবে তাদের প্রভাব থেকে নিজেকে বাঁচানো আপনার হাতেই। নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের মনের শান্তিকে অগ্রাধিকার দিন। তাহলেই এই নেতিবাচকতা আপনাকে আর ছুঁতে পারবে না।


বছরখানেক পর প্রাক্তনের সঙ্গে দেখা, কী করবেন?
ডিলিউশনশিপ, প্রেম নাকি শুধু কল্পনার জাল?
