পিক সিজনেও কম খরচে বিদেশে ঘুরবেন যেভাবে 

পাহাড় হোক বা সমতল, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে পর্যটকদের ভিড়ে পা দেওয়ার জায়গা থাকে না দেশ-বিদেশের পর্যটন স্থানগুলোতে।

পছন্দের হোটেলে রুম পাওয়া যায় না, জিনিসপত্রের দামও হয় চড়া। তবে একটু বুদ্ধি খাটালে আপনিও কম বাজেটে বিদেশে ঘুরে আসতে পারবেন। এজন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্সির প্যাকেজের দরকার নেই, ইন্টারনেট ঘেঁটে আপনি নিজেই সবকিছুর বন্দোবস্ত করে ফেলতে পারবেন। 

বাজেট তৈরি

বেড়াতে যাওয়ার আগে অবশ্যই বাজেট তৈরি করুন এবং সে বাজেট বুঝে খরচ করুন। ভরা মৌসুমে হোটেলের ভাড়া, গাড়ির ভাড়া, জিনিসপত্রের দাম সবকিছুই অনেক বেশি হয়। খেয়াল রাখতে হবে, ফ্লাইট, বাসস্থান, খাবার বিল এবং যা কিছু করতে চান সেসব খরচ যাতে বাজেটের হিসাব থেকে বাদ না পড়ে যায়। 

অগ্রিম বুকিং

পিক মৌসুমে ফ্লাইটের টিকিটের দাম বেড়ে যায়। তবে এয়ারলাইনসগুলো বিভিন্ন সময়ে ছাড় দিয়ে থাকে। তাদের ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে নিয়মিত চোখ রাখলে ছাড়ের খবর পাওয়া যায়। ঝামেলা এড়াতে এবং ছাড় পেতে আগে থেকেই সব বুকিং সেরে রাখুন।

ছবি তুলতে ভালোবাসলে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ুন। ছবি: ফ্রিপিক

হোটেল বাছাই

লোকেশনের ওপর হোটেলের ভাড়া অনেকাংশে নির্ভর করে। যেমন আপনি যদি থাইল্যান্ডের ফুকেটে বেড়াতে যান, তাহলে পাতং সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি হোটেলগুলোর ভাড়া পড়বে বেশি। বড় শপিং মল, স্টেডিয়াম ইত্যাদির কাছাকাছিও হোটেল খরচ সাধারণত বেশি। তাই পর্যটন কেন্দ্রগুলোর কাছাকাছি না থেকে কিছুটা দূরবর্তী স্থানে হোটেল বেছে নিন। 

ভোরে বেড়ানো

বেড়াতে গিয়ে যত দ্রুত দিন শুরু করবেন, ততই লাভ। বেলা বাড়তে শুরু করলে পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে। ভিড় এড়িয়ে ঘুরতে চাইলে সকালে নাশতার পরপরই হোটেল থেকে বেড়িয়ে পড়ুন। যারা ছবি তুলতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই টোটকা আরও কাজে দেবে। 

গণপরিবহন ব্যবহার

বিদেশে ভ্রমণে গেলে উবার, গ্র্যাব, ট্যাক্সি ইত্যাদির পরিবর্তে যতটা সম্ভব গণপরিবহন ব্যবহারের চেষ্টা করুন। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যেমন মেট্রো রেলের মাধ্যমে পুরো শহরের যেকোন স্থানে বেড়ানো সম্ভব। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ইত্যাদি এশীয় দেশগুলোতে এখন মোটরবাইকও বেশ জনপ্রিয়। সারাদিনের জন্য বাইক ভাড়া করে খুবই সাশ্রয়ে ঘোরাঘুরি করতে পারবেন।

বেড়াতে গেলে সেখানকার স্থানীয় খাবার চেখে দেখুন। ছবি: ফ্রিপিক

স্থানীয় খাবার

অনেকেই বিদেশে ভ্রমণে গিয়েও ভাত-ভর্তা দিয়ে খাওয়ার লোভ ছাড়তে পারেন না। এতে খাওয়ার পেছনে খরচ বেড়ে যায় বহুগুণ। কোথাও গেলে বরং সেখানকার স্থানীয় খাবার চেখে দেখুন; অর্থ সাশ্রয় হবে, আবার যেখানে ভ্রমণ করছেন সেখানকার সংস্কৃতিকেও নিজের মধ্যে কিছুটা ধারণ করতে পারবেন।