একা ভ্রমণের ধারণা আজকাল খুব জনপ্রিয়। সত্যিকার অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ পেতে একা ভ্রমণের কোনো তুলনা নেই। কিন্তু এমন অনেকেই আছেন, যারা একাকী ভ্রমণ করতে উদ্বিগ্ন বোধ করেন।
আসলে সলো ট্রাভেলিংয়ের ক্ষেত্রে সাহস ও আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে বেশি জরুরি। ২০২২ সাল থেকে একা একাই ভ্রমণ করে আসছেন রোমানিয়ান নাগরিক লোয়ানা। নিজের ব্লগে লোয়ানা তুলে ধরেছেন তাঁর একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।
এক্ষেত্রে তাঁর প্রথম পছন্দ ইউরোপ। কারণ উন্নত রাষ্ট্র হওয়ায় ইউরোপের দেশগুলোয় সহজেই সবকিছু খুঁজে পাওয়া যায়। নিরাপত্তার দিক তো রয়েছে। ইউরোপ ভ্রমণে ভাষা নিয়েও সুবিধা মেলে। একাকী ভ্রমণের ক্ষেত্রে ইউরোপের সেরা গন্তব্যগুলো সম্পর্কে জানাব আজ-
আমস্টারডাম, নেদারল্যান্ডস
ইউরোপের সবচেয়ে নিরাপদ শহরগুলোর মধ্যে একটি হলো আমস্টারডাম। প্রচুর খাল রয়েছে এখানে, আর খালের পাশে সাজানো ছবির মতো সুন্দর ঘরবাড়ি। ভ্যান গগঁ মিউজিয়াম, অ্যানা ফ্রাংকের বাড়ির মতো ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। হেঁটে হেঁটে ঘোরার ব্যবস্থা তো আছেই। আমস্টারডামের মেট্রো, ট্রাম আর বাস সিস্টেমও বেশ উন্নত। এই শহরে গেলে ফ্রাই, স্ট্রোপওয়াফেলস আর বিটারব্যালেনের মতো স্থানীয় খাবারগুলো চেখে দেখতে একদম ভুলবেন না।
প্যারিস, ফ্রান্স
ইউরোপের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর প্যারিস। আইফেল টাওয়ার, আর্ক ডি ট্রায়মফ, নটরডেম ক্যাথেড্রালের মতো পরিচিত ফরাসী ল্যান্ডমার্কগুলো অবশ্যই ঘুরে আসবেন। এ শহরে পৃথিবীর সমৃদ্ধ কিছু জাদুঘর রয়েছে। আর ফরাসী খাবারের প্রশংসা তো ভুবনজোড়া। ক্রস্যান্ট, ক্রেপ, চিজের বিভিন্ন পদ আমাদের দেশেও এখন সমান জনপ্রিয়। তবে প্যারিসের পরিচিত পর্যটন স্পটগুলোতে প্রচুর পকেটমার এবং দালালের উপস্থিতি রয়েছে। একা ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাই বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে।
মাদ্রিদ, স্পেন
জীবনকে চুটিয়ে উপভোগ করাই মাদ্রিদবাসীর লক্ষ্য। স্পেনের রাজধানীতে গেলে তাই প্রথমে সেখানকার মানুষগুলোকে ভালো লাগবে আপনার। এরপরই দৃষ্টি চলে যাবে মাদ্রিদের চমৎকার স্থাপত্যশৈলীতে। প্লাজা মেয়র, পুয়ের্তা দেল সল আর রয়্যাল প্যালেসে ঘুরে না এলে আপনার মাদ্রিদ ভ্রমণ অসম্পূর্ণ। ভাগ্য ভালো থাকলে ঐতিহ্যবাহী ফ্ল্যামেনকো শো দেখার সৌভাগ্যও হয়ে উঠবে।
শিল্পপ্রেমীরাও হতাশ হবেন না। পাবলো পিকাসোর গুয়েনির্কা’র দর্শন চাইলে যেতে পারেন রেইনা সোফিয়া মিউজিয়ামে।
লন্ডন, যুক্তরাজ্য
সবাই যেহেতু ইংরেজিতেই কথা বলে, তাই প্রথম সলো ট্রিপের জন্য লন্ডন সবচেয়ে উপযুক্ত। প্রথমবার লন্ডন ভ্রমণে গেলে বিগ বেন, লন্ডন আই, ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে, ট্রাফালগার স্কয়ার, পিকাডেলি সার্কাস হলে অবশ্যই যেতে হবে। টাওয়ার ব্রিজ জুড়ে হাঁটা এবং টাওয়ার অব লন্ডনে ঘুরে বেড়ানোও অত্যন্ত আনন্দায়ক অভিজ্ঞতা হবে। এ ছাড়া বিপুল সংখ্যক পার্ক, জাদুঘর আর গির্জা তো রয়েছেই।
ভেনিস, ইতালি
প্রথমবার ভেনিসে গেলে মনে হবে এটি যেন রূপকথার কোনো শহর। তবে এখানে প্রচুর পকেটমারের আনাগোনা থাকায় সতর্ক থাকতে হবে। ভেনিসে ছোটবড় মিলে প্রায় ৪০০ সেতু রয়েছে। গন্ডোলায় চেপে ঘোরার সময় পুরো শহরে কোনো অপরিষ্কার সড়ক চোখে পড়বে না পর্যটকদের।
পিয়াজ্জা সান মার্কোতে ইতালির সবচেয়ে পুরনো কফিহাউস ক্যাফে ফ্লোরিয়ান আছে। সেখানে কফি খেতে যেন ভুল না হয়। ভেনিসে গেলে মন ভরে আরও খাবেন নানা স্বাদের জেলাটো আইসক্রিম।
তথ্যসূত্র: দ্য সলো ট্রাভেল ইন স্টাইল ব্লগ


ঘুরতে যাওয়ার আগে যা জানতে হবে 
