শনিরআখড়ায় এখনও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-শনিরআখড়া এলাকা। এ সময় বিক্ষুব্ধরা মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজায় আগুন ধরিয়ে দেয়। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। 

গতকাল থেকে দফায় দফায় এ সংঘর্ষে দুই বছরের এক শিশুসহ অন্তত ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। একজন নিহত হয়েছেন। 

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সরেজমিনে শনিরআখড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লাঠিসোঁটা হাতে সড়কে অবস্থান করছে অজ্ঞাত পরিচয়ধারীরা। তবে এ সময়ে শিক্ষার্থীদের সড়কে দেখা যায়নি। লাঠি হাতে থাকা লোকজন সড়কের দুপাশ বন্ধ করে রেখেছে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে পুলিশ-র‍্যাব-বিজিবির যৌথ টহলের পর যাত্রাবাড়ী-শনিরআখড়া এলাকায় যান চলাচল শুরু হলেও ফের তা দখলে নেয় আন্দোলনকারীরা। রাতে শনিরআখড়ার কাজলা থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত অন্তত ২০টি জায়গায় আগুন ধরিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দফায় দফায় চলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ যখনই আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়, তখন তাঁরা সড়কের গলিতে দৌড়ে আশ্রয় নেন। এতে ঢাকায় প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে তৈরি হয় আতঙ্ক।

আটকে রাখা হয়েছে সড়ক। ছবি:ভিডিও থেকে নেওয়াগতকাল বুধবার বেলা ১১টা থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৬টার পর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন এবং পুলিশ সেখানে আক্রমণ করলেই বাধে বিপত্তি। শিক্ষার্থীরাও পাল্টা আক্রমণে যায়। চলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। এরপর সেখানে যোগ দেয় জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের কাজলা অংশের টোল প্লাজায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। 

এদিকে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আজ সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করবেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ তাঁর ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, এই কর্মসূচি চলাকালে শুধু হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। 

আরও পড়ুন: