দাফনের শুকনো জমিও মিলছে না, পাহাড়ে এমন বন্যার নেপথ্যে যে কারণ

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

বন্যা বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে পানিবন্দী সমতল ভূমি। কিন্তু চিন্তা করে দেখুন তো—সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে থাকা পাহাড়ি এলাকায় যখন বন্যার পানি ঘরে ঢুকে পড়ে, তখন পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়? দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট এবং চট্টগ্রাম বিভাগ এখন ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি। ১০ লাখের বেশি মানুষ আজ পানিবন্দী। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, মরদেহ দাফনের জন্য এক ফালি শুকনো জমিও মিলছে না! কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, পাহাড়ি এলাকায় কেন এমন বন্যা হয়? কেন সাধারণ বৃষ্টির পানি এখানে রূপ নেয় এক মরণফাঁদে? আজ আমরা এর পেছনের ভৌগোলিক ও মানবসৃষ্ট কারণগুলো জানব।

অতিবৃষ্টির নতুন রেকর্ড

পাহাড়ের বন্যার প্রথম এবং প্রধান প্রাকৃতিক কারণ হলো ভৌগোলিক অবস্থান এবং অতিবৃষ্টি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রতি বছরই এই অঞ্চলে বৃষ্টি হয়। কিন্তু এবারের বৃষ্টিপাত ছিল অস্বাভাবিক। কেবল চট্টগ্রাম অঞ্চলেই গত এক সপ্তাহে রেকর্ড ১ হাজার ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে ১ দিনেই সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস যখন চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়গুলোতে বাধা পায়, তখন মেঘ জমে অবিরাম ভারী বর্ষণ শুরু হয়। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে এই বিপুল পানি যখন একযোগে নিচে নেমে আসে, তখনই সৃষ্টি হয় ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড’ বা আকস্মিক বন্যা।

ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢল

পাহাড়ি বন্যার দ্বিতীয় কারণটি লুকিয়ে আছে আমাদের সীমান্ত ও নদীগুলোর চরিত্রে। সিলেট ও চট্টগ্রামের অধিকাংশ পাহাড়ি নদী এসেছে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম বা মেঘালয়ের উজান থেকে। ভারতের ওই পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে যখন ভারী বৃষ্টি হয়, তখন সেই পানি তীব্র গতিতে বাংলাদেশের নদীগুলো দিয়ে নেমে আসে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, সম্প্রতি হবিগঞ্জের লস্করপুর ইউনিয়নে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। ভারতের ডম্বুর বাঁধ কিংবা পাহাড়ি নদীগুলোর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পানি যখন আমাদের দেশের নদীগুলো আর সইতে পারে না, তখনই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রামকে গ্রাম প্লাবিত হয়। সমতল ভূমির বন্যার মতো এই পানি ধীরে ধীরে আসে না; বরং পাহাড়ি ঢলের পানি আসে সুনামির মতো গতিতে, যা মানুষকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সুযোগও দেয় না।

নির্বিচারে পাহাড় কাটা

তবে এই বন্যার জন্য কি কেবল প্রকৃতিই দায়ী? উত্তর হলো—না। আমাদের নিজেদের কিছু ভুল এই সংকটকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে গত কয়েক দশকে নির্বিচারে পাহাড় কাটা হয়েছে। পাহাড়ের গায়ে যে গাছপালা থাকে, তা বৃষ্টির পানিকে স্পঞ্জের মতো শুষে নেয় এবং মাটিকে ধরে রাখে। কিন্তু পাহাড় কাটার ফলে মাটি আলগা হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টি হলেই শুরু হয় পাহাড়ধস। এবারের বন্যায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে যে বিপুল প্রাণহানি ঘটেছে, তার বড় কারণ এই পাহাড়ধস। শুধু তাই নয়, পাহাড় কাটার সেই আলগা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে এসে সরাসরি পড়ছে আমাদের নদীগুলোতে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, নদীগুলোর তলদেশ পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীর পানি ধারণক্ষমতা একদম কমে গেছে। ফলে সামান্য ঢল আসলেই নদী উপচে চারপাশ প্লাবিত হচ্ছে।

অপরিকল্পিত অবকাঠামো

পাহাড়ের পানি প্রাকৃতিকভাবেই নিচের দিকে নেমে সাগরে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট, কালভার্ট এবং বসতি স্থাপনের কারণে পানি নামার প্রাকৃতিক পথ আজ অবরুদ্ধ। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে আটটি জেলায় প্রায় ১৯ হাজার ৮৬৯ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, আর্থিক ক্ষতি ইতিমধ্যে ২৪৫ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পানি আটকে থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দিনের পর দিন পানির নিচে তলিয়ে থাকছে, বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে তৈরি হচ্ছে এক চরম মানবিক বিপর্যয়।

সিলেট ও চট্টগ্রামের বন্যা আমাদের পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে প্রকৃতির ওপর আমাদের অত্যাচার বন্ধ করতে হবে। পাহাড় কাটা বন্ধ করা, নদীগুলোর তলদেশ ড্রেজিং করা এবং ভারতের সাথে যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কেবল এই স্থায়ী সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। দেশের এই দুর্যোগে দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার মানবিক দায়িত্ব।

বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড বলা হয় চট্টগ্রাম বন্দরকে। দেশের মোট বৈদেশীক বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশই সম্পন্ন হয় এই একটি বন্দর দিয়ে। কিন্তু এই বন্দর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বেশ কয়েকটি বড় অভিযোগ রয়েছে।...
ঘূর্ণিঝড় আসছে কি না, কখন নামবে ভারী বৃষ্টি, কিংবা কোথায় হতে পারে আকস্মিক বজ্রপাত বা বন্যা—এসবের আগাম তথ্য মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ এমনিতেই একটি প্রাকৃতিক...
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা দেখতে দেখতে ৭৫০ ছাড়িয়ে গেল, নিখোঁজ আড়াই হাজারের বেশি মানুষ। আর তিব্বতেও ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ শত শত বিদেশি নাগরিক। কিন্তু বিজ্ঞানীদের কাছে আসল আতঙ্ক এখন অন্য...
সাধারণত নদী-নালার পানি বাড়ে ধীরে ধীরে। দিন কিংবা সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দেয়, মানুষ নিরাপদে সরে যাওয়ার সময় পায়। কিন্তু একবার চিন্তা করুন তো, মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টার বৃষ্টিতে একটি শুকিয়ে...
সচিবালয়কে সরিয়ে আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে স্থানান্তরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও...
গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলায় বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে স্থানীয় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পর আজ মঙ্গলবার ভোর রাতে শহরের বিহারি...
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সৌদি বিমান বন্দরে হামলার পর থেকে নিয়মিত সেখানকার প্রবাসীদের নিয়মিত খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের সঙ্গে পররাষ্ট্র...
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ঋণের নামে লুটপাট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর