ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার দস্যুদের হাতে অপহৃত এমভি আব্দুল্লাহের ২৩ নাবিকের একজন মো. আলী হোসেনের বাড়ি বরিশালের বানারিপাড়া উপজেলার সোমারপাড় গ্রামে। অবসরপ্রাপ্ত স্কুল দপ্তরি ঈমাম হোসেনের ছোট ছেলে আলী। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান। জলদস্যুদের কবলে পড়ার খবর শোনার পর গোটা পরিবারটি এখন দিন কাটাচ্ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায়। পরিবারটি সরকারের কাছে দাবি করছে, আলীকে ফিরিয়ে আনার।
পরিবারের সঙ্গে আলীর শেষ কথা বলেছে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে। সবাইকে সে দোয়া করতে বলেছে। আরও বলেছে, প্রায় ৯০ থেকে ১০০ জন জলদস্যু তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এরা কিছুক্ষণের মধ্যে মোবাইল নিয়ে যাবে।
এ ঘটনার পর আলীর বাড়ির মানুষের চোখে ঘুম নেই। সাতমাস আগে বিয়ে করে ঘরে তোলা স্ত্রী ইয়ামনি এখন নির্বাক। মা–বাবার আর্তনাদ চলছে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার।
আলী নারায়ণগঞ্জ মেরিন থেকে ডিপ্লোমা করে জাহাজে ওয়েলারের চাকরি নেয়। ৪ বছর ধরে সে সাগর–মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছে। গত ৯ জুলাই বিয়ে করার পর ২৯ নভেম্বর আবার জাহাজে ওঠে। গতকাল থেকে নিখোঁজ। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল ছোট এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ বলছে, খবর পাওয়ার পর তারা গোটা পরিবারকে অভয় দিচ্ছে। পরিবারটির দাবি তারা সরকারের কাছে তুলে ধরবে।
আটক আলীর স্ত্রী ইয়ামনি বেগম বলেন, ‘আমাদের বিয়ে হয়েছে মাত্র ৭ মাস হলো। এর মধ্যেই এমন বিপর্যয় মানতে পারছি না। সরকারের কাছে দাবি করছি আমার স্বামীকে ফেরত আনার।’
আলির মা নাসিমা বেগম বলেন, ‘দুই সন্তানের মধ্যে আলী ছোট এবং এই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। ওর সঙ্গে কথা হয়েছে গতকাল সন্ধ্যায়, বলেছে দোয়া করতে।’
আর বাবা ঈমাম হোসেন বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে সন্তানকে ফেরত চাই।’
বিশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘একদম নিরীহ এই পরিবারটির জন্য গোটা এলাকার মানুষ এখন স্তব্ধ।’
বানারিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানান, তারবার্তায় খবর পাওয়ার পর থেকে এ পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সন্তান ফিরে পেতে পরিবারটির দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম গ্রুপ। জাহাজটি মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জাহাজে ২৩ জন নাবিক রয়েছে। এডেন উপসাগরে জাহাজটিতে হামলা চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয় জলদস্যুরা।
জাহাজটিতে যে ২৩ জন নাবিক রয়েছে তারা সবাই বাংলাদেশি। এর মধ্যে ১১ জনের বাড়ি চট্টগ্রামে। নোয়াখালীর দুজন। বাকিরা ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, নওগাঁ, খুলনা, নেত্রকোনা, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও বরিশালের। এবিল সি-ম্যান (নাবিক) হিসেবে আছেন বরিশালের মো. আলী হোসাইন।


একমাস আগে বাবা মারা যায় নাবিক আইয়ুবের, ছেলের চিন্তায় মায়ের আর্তনাদ
জলদস্যুদের হাতে বন্দি তারেকুল মা-বাবার আহাজারি
