আগামী দুই থেকে তিনদিন বৃষ্টিপাতের পর ভারী বৃষ্টির আর শঙ্কা নেই এ বছর। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অল্প পরিমাণে বৃষ্টিপাত হতে পারে। এমনটাই বলা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে। এছাড়া সাগরে নিম্নচাপের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা।
ঋতুচক্র অনুযায়ী, আষাঢ়-শ্রাবণ দুইমাস বর্ষাকাল বলা হলেও আবহাওয়া অধিদপ্তরের ক্যালেন্ডারে জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই চার মাসকে ধরা হয় বর্ষাকাল। সেই হিসেবে এখন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়।
জুন-জুলাইয়ে সারা দেশে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে তার মাত্রা ছিলো স্বাভাবিক, বলছেন আবহাওয়াবিদরা। আগামি তিনদিন মোটামুটি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস তাদের।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, আগামী দুই থেকে তিনদিন মোটামুটি সারাদেশেই বৃষ্টি হবে। এরপরে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অনেকখানিই কমে যাবে। সে অনুযায়ী বলা যায়, আগস্টের ৯ তারিখ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য হারে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
আবহাওয়া ও জলবায়ু চরিত্র বিবেচনায় এপ্রিল-মে মাসে তাপমাত্রা বেশি থাকে। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ থাকে কম। অপরদিকে জুন, জুলাই, আগস্ট থেকে কমে আসে তাপমাত্রা। গড়ে ২৯ ডিগ্রি থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে পারদ। তবে এসময়, তাপমাত্রা যাই থাকুক না কেন গরম অনুভূত হয় তার চেয়ে বেশি।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক আরও বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকার কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে মানুষের শরীরে তাপমাত্রার অনুভূতি ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হয়। তার কারণ হলো– মানুষের শরীর থেকে ঘাম বের হয়। এই ঘাম বের হওয়ার কারণে একটা অস্বস্তি তৈরি হয়। আশা করি, আগস্টের শেষ দিক থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণও কমে যাবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগস্টের শেষ দিক থেকে বাতাসে জলীয় বাষ্প কমতে শুরু করলে গরমের তীব্রতাও থাকবে না। ফলে অস্বস্তিও কিছুটা কমে আসবে জনজীবনে।



