সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে জোড়েসোড়ে। অনেক গ্রাহকের দাবি, জুনের তুলনায় জুলাই মাসে ৪ গুণ পর্যন্ত বিল বেশি গুণতে হয়েছে। কোথাও এর কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা। এমন অবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসিকে বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
জুন মাসের শুরুতে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়লেও, মাস শেষে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগ তোলেন অনেক গ্রাহক। বিতরণ সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রবণতা কমেনি জুলাই মাসেও।
ডিপিডিসি'র একটি আঞ্চলিক অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বাড়তি বিলসহ নানা অভিযোগ নিয়ে আসছেন গ্রাহকরা।
অভিযোগ নিয়ে আসা এক গ্রাহক বিলের কপি দেখিয়ে বলেন, এই মিটারগুলোতে ১৭০০ টাকা করে ঢোকানো হয়েছে, অথচ এখানে বিলে ব্যালেন্স দেখাচ্ছে ১২১ টাকা। এখানে উনাদের কাছে এসে এই টেবিল, ওই টেবিল ঘুরে কারও সাথেই যোগাযোগ করতে পারছি না।
আরেক গ্রাহক জানান, টাকা ফুরিয়ে গেছে, ফলে রিচার্জ করেছি। কিন্তু বিদ্যুৎ আসছে না।
এদিকে ২ মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ বিল ৩ গুণ বৃদ্ধির চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন ভুক্তভোগী আরেক গ্রাহক। তিনি বলেন, এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১৬শ থেকে সাড়ে ১৬শ টাকা। এরপর হঠাৎ করেই মে মাসে বিল দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮শ টাকা এবং জুন মাসে আমরা ৪ হাজার ৪২৫ টাকা বিল পরিশোধ করেছি।
সারাদেশের বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের কপি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত বেশি অর্থ গুণতে হয়েছে জুলাই মাসে। গ্রাহকদের অভিযোগ দিনে ৮/১০ ঘন্টা লোডশেডিং থাকার পরও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বিদ্যুৎ বিল।
লোডশেডিংয়ে জর্জরিত এমনই এক গ্রাহক বলেন, এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে চূড়ান্ত মাত্রায়। খুবই অবস্থা খারাপ। জনজীবন অতিষ্ঠ, ঘুমাতে পারি না রাতে। আর এদিকে প্রত্যেক মাসেই বিল বাড়ছে তো বাড়ছেই।
বিদ্যুতের এমন অতিরিক্ত বিলকে 'ভূতুড়ে' উল্লেখ করে আরেক গ্রাহক জানান, জুন মাসেও আমি ৫০০-৫৫০ টাকা বিল দিয়েছি। কিন্তু এই মাসে (জুলাই) হঠাৎ করে দেখি যে, বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২ হাজার ২০০ টাকা। এটাতো একটা অস্বাভাবিক বিল, মানে ভূতুড়ে বিল।
এক মাসের ব্যবধানে চারগুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল আসার অভিজ্ঞতার কথা জানান আরেক গ্রাহক। তিনি বলেন, জুলাই মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১৭০০ টাকা, যেটা বিলম্ব ফিসহ দাঁড়ায় ১৭০৬ টাকায়। এটা পূর্ববর্তী মাসের বিদ্যুৎ বিলের চেয়ে প্রায় ৪ গুণ বেশি।
সিস্টেম লস কমানোর লক্ষ্য পূরনে অতিরিক্ত বিল আদায় হতে পারে বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রাহক স্বার্থে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন তারা।
এ প্রসঙ্গে সিপিডি'র গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, 'এমনটা হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। বিইআরসি'র পুরো অধিকার রয়েছে এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে স্ব-উদ্যোগেই এই কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে স্যাম্পল ভিত্তিতে অডিটগুলো করে দেখতে পারেন, যে পরিমাণে (বিদ্যুৎ) যাওয়ার কথা সে পরিমাণে যাচ্ছে কিনা, সেখানে ওভারবিলিং হচ্ছে কিনা, সেই বিষয়গুলো দেখা।'
বিদ্যুৎ খাতের নানা অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ পর্যালোচনা ও নির্দেশনা দিতে, একজন ন্যায়পাল নিয়োগ দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।



