ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতের পর এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ার জেলেপল্লী এখনও বিধ্বস্ত। মেরামত করতে না পারায় এখনও ঘরে ফেরা হয়নি জেলেদের। সরকারি সহায়তা ছাড়া দরিদ্র পরিবারগুলোর ঘর মেরামত সম্ভব নয়। তাই সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় আছে জেলে পরিবারগুলো।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাবলী ইউনিয়নের খাজুড়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় রিমাল লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেছে গোটা গ্রাম। ঝড়ের ছয় দিন পর ঘরবাড়িগুলো মেরামতের চেষ্টা করছে গ্রামবাসী।
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া জেলেপল্লীর বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ঘরের টিন, দেয়াল সবই পড়ে গেছে। এখন আস্তে আস্তে সব ঠিক করার চেষ্টা করছি।
ঘর ধসে পড়ার পাশাপাশি আরও বিভিন্ন রকম ক্ষতি হয়েছে জেলেপল্লীর অন্যদের ঘরেরও। গাছ পড়ে আছে অনেক ঘরের ওপর। কারো বা উড়ে গেছে চাল। সাগরের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা রহিমার মতো অন্য পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতাও প্রায় একই রকম।
এলাকাবাসী বলেন, একদিকে চলছে সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের অবরোধ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘূর্ণিঝড় রিমালের ভয়াবহ আঘাত। সবমিলে দুর্বিসহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এই জেলেপল্লীতে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রিমালের আঘাতে ঘর হারা হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত নৌকা মেরামত হয়নি, তাই কাজ-কর্ম আর ব্যবসা-বাণিজ্যও বন্ধ। এ পরিস্থিতিতে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন স্থানীয়রা।
মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় ট্রলারগুলোও পড়ে আছে নোঙর করে। নিস্তরঙ্গ এ পরিস্থিতিতে জেলেদের আয়-রোজগারও বন্ধ। গভীর অনিশ্চয়তার ছাপ তাদের চোখেমুখে।
তছনছ হয়ে যাওয়া জেলেপল্লীর বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ি আকড়েই অপেক্ষা সরকারি ত্রাণ-সহায়তার। আশা ঘরগুলোকে মেরামত করে আবার মিলবে মাথাগোঁজার ঠাঁই। তা না হলে সামনের বর্ষায় দুর্দশা হবে বর্ণনাতীত।
গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে ভয়াবহ ঘর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম সিডর, আইলা। কিন্তু সেসব ঘূর্ণিঝড় যতটা সময় ধরে উপকূলে তাণ্ডব চালায়, তার চেয়ে বেশি সময় ধরে চলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডব।
রোববার রাত ৮টার দিকে উপকূলে আছড়ে পড়ার পর, ১৩ ঘণ্টা ধরে ব্যাপক শক্তি নিয়ে চলে ধ্বংসযজ্ঞ। ফুঁসে ওঠা নদীর পানিতে প্লাবিত হয় জনপদ। সোমবার সকালে দুর্বল হওয়ার পরও এর প্রভাব উপকূলীয় এলাকায় ছিল লক্ষ্যণীয়। বাঁধে ভাঙন-জলোচ্ছ্বাসের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিভিন্ন জেলায়।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের আচরণ ছিল অন্য ঝড়ের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি দুর্বল হয়ে সোমবার ভোর ৬টায় প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে ঘূর্ণিঝড়ে এবং পরে স্থল গভীর নিম্নচাপে রূপ নেয়। কিন্তু তারপরও দিনভর ঝোড়ো হাওয়া আর বৃষ্টি চলে দেশজুড়েই।
আরও পড়ুন:
- ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
- প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত রিমাল, পায়রা-মোংলায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত
- ঘূর্ণিঝড়ের মাস হয়ে উঠছে মে
- বঙ্গোপসাগরে ভয়ংকর যত ঘূর্ণিঝড়
- রাতে ১৩৫ কি.মি. গতিতে আঘাত হানতে পারে রিমাল
- ঘূর্ণিঝড় রিমাল: পায়রা ও মোংলায় ৭ নম্বর বিপদসংকেত
- ঘূর্ণিঝড় রিমাল মোকাবিলায় প্রস্তুত ৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র
- ‘সাতক্ষীরা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে’
- বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত, ১০ ফুট জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা
- পাউবোর কন্ট্রোল রুম চালু, কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল
- পূর্ণশক্তি নিয়ে উপকূল অতিক্রম করছে ‘রিমাল’, রাজধানীতে বৃষ্টি
- রিমালে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলার ভোট বাতিল
- দুর্গত এলাকায় সোমবার সব স্কুল বন্ধ: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
- হাতিয়ার ১৪ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দী হাজারো মানুষ
- খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের শঙ্কা, খোলা হয়েছে ১০০ আশ্রয় কেন্দ্র
- ঘূর্ণিঝড় রিমালে লক্ষ্মীপুরে ১৫ গ্রাম প্লাবিত
- সুন্দরবনের ১৬ স্টেশন প্লাবিত



