পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসার নামে এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক মেলামেশায় বাধ্য করা এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরী ও তার মাকে ব্ল্যাকমেইল এবং হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসা ও তার স্ত্রীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গত ৩১ অক্টোবর ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় মামলাটি করেন। এতে সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (২০২৬ সালের সংশোধনীসহ) এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আসামিরা হলেন মনসাতলী গ্রামের কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসা (৪০), তার স্ত্রী ফাহিমা বেগম (২৮), অসিম গাজী (৩৫), আব্দুল গনি মুন্সী (৩৮), রাসেল আকন (৩৮), আব্দুল ওয়াদুদ (৫০) ও রমজান গাজী (২৮)।
এজাহারে বলা হয়েছে, কিশোরী অসুস্থ থাকায় পরিবার বিভিন্নভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করছিল। এ সময় পূর্বপরিচিত অসিম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসার নামে তাইজুল কিশোরীকে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা করেন। এ সময় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসা জানান, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে সরাসরি সাক্ষাতের কথা জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


