কক্সবাজার শহরের পানির চাহিদা মেটাতে সদরের ঝিলংজায় নির্মাণ হচ্ছে পানি শোধনাগার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১৫০ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন হচ্ছে এই প্রকল্প। দুই একর জমির ওপর এই শোধনাগারের পানির ট্যাংক নির্মাণ প্রায় শেষের পথে।
কক্সবাজার সৈকত সংলগ্ন দরিয়া নগরে ৩০ বছর ধরে আছেন রীপা আকতার। পাহাড়বেষ্টিত এই এলাকায় বসতি স্থাপনের পর থেকে পানির সংকটে পড়েছে কয়েক শ পরিবার।
রীপা আকতার বলেন, ‘সুপেয় পানির অভাবে খুব কষ্টে দিন কাটছে। পাহাড় থেকে নেমে আমরা টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে যাই। পানির সমস্যা সমাধানে কারো কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাই নাই।’
জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কক্সবাজার পৌর এলাকায় সুপেয় পানির সংকট চরমে পৌঁছেছে। একই অবস্থা টেকনাফ, মহেশখালী, পেকুয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায়।
ভুক্তভোগী স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের টেকপাড়াতে অনেক বছর ধরে পানির সমস্যা। ওয়াসার পানি এখানে আসে না। একটা ট্যাংকই পানির একমাত্র উৎস। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় আমরা পানি পাচ্ছি না।’
আরেক স্থানীয় বলেন, ‘আগে আমাদের সবার ঘরে ঘরে টিউবওয়েল ছিল। পানি লবণাক্ত হয়ে গেছে। এখন সবাই আমরা একটা কল ব্যবহার করি। এই কলটাতেও পানি কম আসছে। আরেকটা টিউবওয়েল হলে ভালো হয়।’
ঝিলংজায় ২০২২ সালে শুরু হওয়া পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের পথে। ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি চালু হতে পারে। প্রথম ধাপে শোধনাগার থেকে পাঁচ হাজার পরিবারকে পানি সরবরাহ করা হবে।
পানি শোধনাগার প্রকল্পের পাশাপাশি কক্সবাজার পৌর এলাকায় ৬৮ লাখ লিটারের পাঁচটি পানির ট্যাংক স্থাপন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এ ছাড়া বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৩২টি পানি সরবরাহ কার্যক্রম এবং ২২০০ কমিউনিটি টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ করছে অধিদপ্তর।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবুল মনজুর বলেন, ‘কোন জায়গায় পানির সমস্যাটা বেশি, ওই হিসেবে আমরা টোটাল মাস্টারপ্ল্যানটা করেছি। আমরা প্রথমে ফার্স্ট প্রায়োরোটি হিসেবে হোটেল-মোটেল জোন থেকে শুরু করেছি। এর পর আমরা তিন ও চার নম্বর ওয়ার্ডে যাব। পরে আলটিমেটলি আগামী তিন মাসের মধ্যে এই কাজটা শেষ করে ট্রায়াল রানে যাব। আশা করি, এখানে পানির সমস্যা থাকবে না।’



