নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ট্রাকচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাঁচ যাত্রী ও চালকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রাকচালককে আটক করেছে পুলিশ।
আটক আব্দুর জাহের (৪০) লক্ষ্মীপুর জেলার চরবাদাম ইউনিয়নের পূর্ব চরশিতা গ্রামের তিতা মিয়া পণ্ডিত বাড়ির মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শাহীন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কবিরহাট থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের চিশতিয়া দরবার শরীফের সামনে থেকে ওই ট্রাকচালককে আটক করে।
এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে কবিরহাট পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের পূর্ব ফতেহপুরে কবিরহাট ফাজিল মাদরাসার সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন–অটোরিকশাচালক কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রয়াত খোরশেদ আলমের ছেলে শাহ আলম খোকন, একই পৌরসভার গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে ইসরাত জাহান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাঁকড়ার সিরাজুল হকের ছেলে সুলতান আহমদ সুমন, সেনবাগ উপজেলার নবীপুরের আবুল কালামের ছেলে তামিম হাসান, বিবি কুলসুম ও জান্নাত।
এর মধ্যে তানিম হাসান নোয়াখালী সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ইসরাত জাহান একই কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
পুলিশ জানায়, দুপুর ২টার দিকে জেলা শহর মাইজদী থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা বসুরহাট যাচ্ছিল। পথে কবিরহাট ফাজিল মাদরাসার সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটি সড়কের উল্টো পাশে চলে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে অনেক দূর নিয়ে যায়। এতে অটোরিকশার চালকসহ তিন যাত্রী ঘটনাস্থলে মারা যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে জেলা সদরে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এবং একজনকে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের তিনজনকেও মৃত ঘোষণা করেন।
কলেজ ছাত্র তামিম হাসানের বাবা আবুল কালাম জানান, তামিম তাঁদের একমাত্র ছেলে। কলেজে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল সে।
ফায়ার সার্ভিসের কবিরহাট স্টেশন লিডার ফিরোজ আলম জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান তারা। অপর তিনজনের মধ্যে দুজনের মরদেহ ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এবং একজনের মরদের কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।
ওসি মো.শাহীন মিয়া আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেলেও দুই ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে আটক করে পুলিশ। ট্রাকটি জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় এনে রাখা হয়েছে। অপর দুটি মরদেহ ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।



