কুমিল্লায় টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) পণ্যে ওজন কম দেওয়ার অভিযোগে ফারুক স্টোর নামে এক ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় টিসিবি পণ্য বিতরণকালে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কাওসার মিয়া এ জরিমানা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, চিনি, চাল ও খেজুরসহ বিভিন্ন পণ্যে প্রতি কেজিতে ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছিল। উপস্থিত ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকজনের পণ্য ডিজিটাল স্কেলে মেপে ওজন কম পাওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত হন কর্মকর্তারা।
ফারুক স্টোরের সত্ত্বাধিকারী পারভিন আক্তার বলেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পণ্যে কম দেওয়া হয়নি। মাপার সময় ভুল হতে পারে। ভবিষ্যতে যাতে এমন না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।’
রমজান উপলক্ষে টিসিবি পাঁচ ধরনের পণ্য সরবরাহ করছে—চিনি (১ কেজি), মসুর ডাল (২ কেজি), ছোলা (১ কেজি), সয়াবিন তেল (২ কেজি) ও খেজুর (৫০০ গ্রাম)। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি পণ্যেই নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম দেওয়া হচ্ছিল।
কুমিল্লায় প্রতিদিন পাঁচটি ট্রাকের মাধ্যমে টিসিবি পণ্য বিক্রি করা হয়। প্রতিটি ট্রাকে ৪০০ জনের জন্য বরাদ্দ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার পরিবার এ সুবিধা পায়। জনপ্রতি মোট ছয় কেজি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করা হয়। অভিযোগ ওঠে, প্রত্যেক গ্রাহকের পণ্যে গড়ে প্রায় ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছিল।
অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ওজনে কারচুপি প্রমাণ পায়। এরপর ডিলারকে জরিমানা করা হয়।
সহকারী পরিচালক মো. কাওসার মিয়া বলেন, ‘সরকার স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে এসব পণ্য সরবরাহ করছে। কেউ যদি ওজনে কম দিয়ে অনিয়ম করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে ডিলারকে সতর্ক করা হয়েছে।’
কুমিল্লা টিসিবির উপপরিচালক মামুনুর রশীদ গাজী বলেন, ‘অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে পণ্য বিতরণ করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
টিসিবি পণ্য নিতে আসা রোকসানা আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে স্বল্পমূল্যে পণ্য নিতে এসেছি। যদি ওজনে কম দেওয়া হয়, তাহলে তা দুঃখজনক।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. হানিফ অভিযোগ করেন, নিম্ন আয়ের মানুষরা সরকারি ভর্তুকির পণ্য নিতে আসেন। অথচ তাদের সঙ্গেই প্রতারণা করা হচ্ছে। আমরা কয়েকজনের পণ্য মেপে দেখেছি—প্রতি কেজিতে প্রায় ১০০ গ্রাম এবং দুই কেজির ডালে প্রায় ২০০ গ্রাম কম দেওয়া হচ্ছিল। এর প্রতিকার প্রয়োজন।



