লক্ষ্মীপুরে এক তেল ব্যবসায়ীর হামলায় ছাত্রদলের দুই নেতা আহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের বাহিরে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির প্রতিবাদ করায় ওই তেল ব্যবসায়ী, তার ছেলে ও তাঁর অনুসারীরা এই হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে আহত দুই ছাত্রদল নেতা জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গতকাল বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার দালাল বাজার মোরগ হাঁটা তোফায়েল আহমেদের তেলের দোকানের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন–দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২য় বর্ষের ছাত্র এমদাদুল হক ইমন এবং উত্তর হামছাদি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্যসচিব আল-আমীন হোসেন রুদ্র।
এদিকে খবর পেয়ে বুধবার রাত ৯টার দিকে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশীদুল হাসান লিংকন আহত ছাত্রদলের দুই নেতাকে হাসপাতালে দেখতে যান।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত ইমন জানান, বুধবার বেলা ১১টার দিকে তিনি ওই তেলের দোকানে তেল কিনতে যান। এ সময় তিনি দেখতে পান, ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১৩০-১৪০ টাকা করে রাখা হচ্ছে। কিন্তু সরকারি নির্ধারিত দাম ১১৬ টাকা। দোকানদার তোফায়েলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে তার ছেলে জিহাদ ও তার অনুসারীরা এসে তাঁকে (ইমনকে) বেদম মারধর করে। খবর পেয়ে তাঁকে (ইমনকে) উদ্ধার করতে আসলে হামলাকারীরা ছাত্রদল নেতা রুদ্রকেও বেদম মারধর করে। এ সময় তাদের দুইটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
সদর উপজেলা (পশ্চিম) ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির প্রতিবাদ করে ছাত্রদলের ইমন। ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানদার তোফায়েলের ছেলে জিহাদ তার অনুসারীদের নিয়ে ইমনকে বেদম মারধর করে। খবর পেয়ে ছাত্রদল নেতা রুদ্র গেলে তারা রুদ্রকেও মারধর করে। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে দোকানদার তোফায়েলের ছেলে জিহাদ বলেন, ‘ইমনকে মারধরের বিষয়টি সত্য নয়। আমরা নিয়মমাফিক তেল বিক্রি করছি। অনেক মানুষ সিরিয়ালে তেল নিচ্ছে। ইমন এসে বিশৃঙ্খলা করেছে। উত্তেজিত পাবলিক তাকে কিছু করেছে কিনা আমাদের জানা নেই।’
এ বিষয়ে দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সময় আমার আদালতে একটি বৈঠক চলছে। তখন একটি ফোন আসে যে, এক ছেলেকে একাধিক যুবক ধাওয়া করছে। ছেলেটা গিয়ে একটি ঘরে আশ্রয় নেয়। পরিষদ থেকে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, বিষয়টি জানা নেই। কেউ অভিযোগও করেনি।



