ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সাড়ে ৫টায় জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কড়া পাহারায় তাকে তড়িঘড়ি করে চিপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৩ এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদের আদালতে উঠানো হয়। এসময় তার মাথায় হেলমেট ও পরনে পুলিশ ভেস্ট ছিল। পরে নামানোর সময়ও তাকে তড়িঘড়ি করে প্রিজন ভ্যানে উঠায় পুলিশ।
পরে জিসানের আইনজীবী মনির হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে কারা হাসপাতালে রাখার আবেদন করেছি। এসময় আদালত আমাদের কাছে ওকালতনামা চায়। ওকালত নামার জন্য আমরা পুলিশ কাস্টরিতে তার কাছ থেকে ওকালতনামা নিতে চাইলে ডিবি ও জেলা পুলিশ তা দেয়নি। তারা তড়িঘড়ি করে সাংবাদিকদেরসহ ধাক্কা দিয়ে প্রিজন ভ্যানে উঠিয়ে ফেলে। এতেই বুঝা যায় তারা কোনো কিছু লুকাতে চায়।’
এর আগে, কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর গত শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় শিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধারের দাবি করে পরিবার। পরে ওই দিন রাতেই চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে এক নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় করা মামলাটিতে মোট আসামি করা হয়েছে চারজনকে। মামলায় ওই নারীকে একাধিকার ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জিসান ছাড়াও মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিন আসামি হলেন সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসান। তাদের সবার বাড়ি দাউদকান্দিতে। এদিকে শনিবার বিকেলে তাদের কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু গ্রেপ্তার দেখানো হলেও জিসান নিজেকে অসুস্থ দাবি করায় তাকে এখনো আদালতে হাজির করা হয়নি।
এই ঘটনায় প্রেস ব্রিফিং করে শনিবার জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে তার চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি থানায় একটি জিডি করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। অনুসন্ধানকালে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। নিখোঁজের অনুসন্ধান চলাকালে গত শুক্রবার রাতে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।



