মানিকগঞ্জে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৭০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে সরকার দলীয় কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। গত ১৬ জুলাই (মঙ্গলবার) শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাটে দিনে-দুপরে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় শিবালয় থানা-পুলিশকে জানানো হলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানান ভুক্তভোগী। পরে গত সোমবার শিবালয় থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন ওই ভুক্তভোগী।
এদিকে ঘটনার ৮দিন পার হলেও স্বর্ণ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি শিবালয় থানা-পুলিশ। এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে স্থানীয়দের আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারণা, মিজানুর রহমান চোরাই স্বর্ণ পাচার করতে যাচ্ছিলেন। স্বর্ণের সঠিক হিসেব তাঁর কাছে না থাকায় তিনি থানায় হাজির হচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল খালপাড় গ্রামের বাদশা খলিফার ছেলে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ৭০ ভরি স্বর্ণের সাতটি বার নিয়ে পার্শ্ববর্তী পাবনা জেলার ঈশ্বরদী যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাটে যমুনা নদী পাড় হওয়ার সময় শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস, শিবালয় উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি অসিয়ার রহমান সিকো, শিবালয় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন, ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী রাকিবুল ও টুটুল ডিবি পরিচয়ে তাঁর গতিরোধ করেন। এ সময় তারা মিজানুর রহমানকে ৭টি স্বর্ণের বারসহ একটি গাড়িতে উঠিয়ে তেওতা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা বিশ্বজিৎ দাসের বাড়িতে নিয়ে যান। মিজানুরকে বিশ্বজিৎ দাসের বাড়িতে সারাদিন আটকে রেখে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর কাছে থানা ৭টি স্বর্ণের বার ও একটি মোবাইলফোন রেখে সন্ধ্যায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উথুলী এলাকায় নিয়ে ছেড়ে দেন। ছাড়া পেয়ে বিষয়টি তিনি (মিজানুর রহমান) স্থানীয় পুলিশকে মৌখিকভাবে অবগত করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কিন্তু স্বর্ণ ছিনতাইয়ের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জড়িত থাকায় পুলিশ মামলা না নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে বলেন। পরে সমঝোতা না হওয়ায় সিঙ্গাইর উপজেলা চেয়ারম্যান সায়েদুল ইসলাম বিষয়টি পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খানকে মৌখিকভাবে অবগত করেন। এরপর ঘটনার ৬দিন পর গত সোমবার ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন।
এদিকে মামলায় নাম না থাকলেও ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস, শিবালয় উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি অসিয়ার রহমান সিকো, শিবালয় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সেলিম রেজাসহ নয়ন, রাকিব টুটুল। গত ৮দিন ধরে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ থাকায় তাঁদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘বিষয়টি আমি লোক মারফতে জেনেছি। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দদের অবগত করেছি। এই অপকর্মের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ সরকার বলেন, ‘স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি অজ্ঞাত মামলা হয়েছে। বাদী হাজির না হওয়ায় মামলার তেমন অগ্রগতি নেই। ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার হয়নি।’
ঘটনার ছয়দিন পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে কেন মামলা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘বাদী যখন এসেছে তখন মামলা হয়েছে। বিষয়টি অন্যকিছু না।’



