সাবেক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী, বিসিবির সাবেক সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সাবেক এমপি নাজমুল হাসান পাপনসহ ১১৭ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। আজ রোববার কিশোরগঞ্জ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) ট্রাইবুনালে মামলাটি দায়ের করেন মামুন মিয়া নামের এক পরিবহন শ্রমিক।
কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র মামলাটি আমলে নিয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী স্বপন কুমার সরকার।
মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের এপিএস সাখাওয়াত মোল্লা, ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু, সহসভাপতি মির্জা সোলায়মান, ভৈরব পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ, আওয়ামী লীগ নেতা সেফাত উল্লাহ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাকিব রায়হানসহ ১১৭ জন। এ ছাড়া আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই দুপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ট্রাকে তেল নেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি পাম্পে যাচ্ছিলেন মামলার বাদী মামুন। ভৈরবের শহিদুল্লাহ কায়সার পাদুকা মার্কেটের সামনে পৌঁছালে আসামিরা বিভিন্ন অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শান্তি সমাবেশের নামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সেখানে নাজমুল হাসান পাপনের হুকুমে কয়েকজন আসামি শটগান ও পাইপগান দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় ছাত্র-জনতা দিগ্বিদিক পালিয়ে জীবন রক্ষা করে। এ সময় বাদী মামুনকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী মনে করে আসামিরা দা ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে একটি হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ডান হাত কেটে ফেলতে হয়।



