রাজধানীর পল্টনে একটি বাসার গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। লিমা আক্তার (১৬) নামের ওই গৃহকর্মী ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে দাবি করেছেন বাসার মালিক। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহকর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) আনা হয়। এরপর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গৃহকর্মী লিমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ফ্ল্যাট মালিক খাইরুল কবির খান বলেন, ‘আমি বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম হঠাৎ অনেক লোকজন দেখতে পেয়ে এগিয়ে দেখি একটি লিমা রাস্তায় পড়ে আছে। তাকে আমি চিনি না।’ এরপর ওই ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘আপনি যদি নাই চেনেন তাহলে এই মেয়ের নাম জানেন কীভাবে?’ পরবর্তীতে তিনি বলেন, ‘আমার বাসা ১৪তলায়। সে ওই ভবনের ১৭তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা গেছে। দেড় বছর আগে আমার বাসায় কাজে আসে। মেয়েটির ঠিকানা জানি না।’
খাইরুল কবির খান জানান, তিনি খান ব্রাদারস গ্রুপের একজন পরিচালক। তিনি ও তার ছেলে মার্জিম কবির খান রাফি মেয়েটিকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। আনার পর চিকিৎসক ওই গৃহকর্মীকে মৃত ঘোষণা করেন। খাইরুল কবিরের ছেলে মার্জিম এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
এদিকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, ‘প্রথমে ওই ব্যক্তি আমাদের জানান, মেয়েটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। পরে কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হলে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, মেয়েটি ১৭ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছে।’
এ বিষয়ে পল্টন থানা উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন শেখ বলেন, ‘আমি অন্য একটি কাজে ঢাকা মেডিকেলে এসেছিলাম। পরে বিষয়টি জানতে পারি। তারা আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে চাচ্ছে না। এই ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফ্ল্যাট মালিক খায়রুল কবির খান ও তার ছেলে মার্জিম কবির খান রাফিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। তবে ওই গৃহকর্মীর নাম ছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো ঠিকানা-পরিচয় পাওয়া যায়নি।’
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাসিরুল আমিন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। ওই ভবনে এসে আমরা সিসি ফুটেজগুলো চেক করছি। ঢাকা মেডিকেলে আমাদের একজন এসআই রয়েছেন।’



