ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে। আগামী ৬ মার্চ প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ রোববার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এ জন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম. এ আজহারুল ইসলামের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ধার্য করেন।
গত বছর ১২ মে আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে মুমতারিন বলেন, ‘মানিক মিয়া এভিনিউয়ের বাসায় আমরা সপরিবারে বাস করি। ৯ মে রাত ৮টার দিকে আমার বাবা আনোয়ারুল আজিম আনার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ যাওয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন। ১১ মে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বললে বাবার কথাবার্তা কিছুটা অসংলগ্ন মনে হয়। এরপর বাবার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও বন্ধ পাই। গত ১৩ মে বাবার ভারতীয় নম্বর থেকে উজির মামার হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা আসে। এতে লিখা ছিল, “আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সঙ্গে ভিআইপি রয়েছে। আমি অমিত সাহার কাজে নিউটাউন যাচ্ছি। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নাই। আমি পরে ফোন দেবো।” এ ছাড়া আরও কয়েকটি বার্তা আসে। বার্তাগুলো আমার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা করে থাকতে পারে।’
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘বিভিন্ন জায়গায় বাবার খোঁজ করতে থাকি। কোনো সন্ধান না পেয়ে তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস বাদী হয়ে ভারতীয় বারানগর পুলিশ স্টেশনে সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপরও আমরা খোঁজাখুজি অব্যাহত রাখি। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে বাবাকে অপহরণ করেছে।’
উল্লেখ্য, গত ১২ মে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিখোঁজ হন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। পরে ১৮ মে বরাহনগর থানায় তার নিখোঁজের অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
তদন্তে নেমে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের এসটিএফ এবং বরাহনগর থানা জানতে পারে, কলকাতার নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে এমপি আনারকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিআইডি তদন্তভার নেওয়ার পর ২২ মে জিহাদ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় সিয়াম নামের আরেকজনকে। জিহাদ ও সিয়ামকে গ্রেপ্তার করার পরে সিআইডি জানিয়েছিল, খুনের পর এমপি আনারের দেহের মাংস এবং হাড় পৃথক করে ফেলা হয়।
অন্যদিকে, ঢাকার পুলিশ দেশে আমানুল্লা ওরফে শিমূল ভূঁইয়া, শেলাস্তি রহমান, ফয়জল ও মুস্তাফিজুরসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে ওই ঘটনার মূল চক্রান্তকারী এমপি আনারের বন্ধু আখতারুজ্জামান শাহিন পলাতক আছেন। তাঁকে আমেরিকা থেকে ভারতে আনার চেষ্টা করছে সিআইডি।



