রাজবাড়ীতে সাংবাদিক ইমরান হোসেন মনিমের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও হামলাকারিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী রিপোর্টার্স ক্লাবের আয়োজনে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে সাংবাদিকরা বলেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বালু মহালের টেন্ডার জমা নিয়ে দুটি গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মাছরাঙা টেলিভিশনে জেলা প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ভিডিও ধারন করলে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পিটিয়ে ও কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই রাজবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করে আহত ইমরান হোসেন মনিম।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মামলার এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমকালের জেলা প্রতিনিধি শৈমিত্র শীল বলেন, ‘সাংবাদিক ইমরানের অপরাধ সে পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনের সময় টেন্ডার জমা নিয়ে দুটি গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার ভিডিও করছিলে। সেই অপরাধে তাকে পিটিয়ে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে। এর পাশেই পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও আদালত। জেলার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকায় একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা হলো। এটা দুঃখজনক। এঘটনায় মামলার এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের কাছে প্রশ্ন আসামিরা কী এতটাই প্রভাবশালী, যে কারণে একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।’
শৈমিত্র শীল আরও বলেন, ‘আমরা নিরাপদে সাংবাদিকতা করতে চাই। এঘটনায় কার কাছে বিচার চাইবো? জেলা প্রশাসন আছে, পুলিশ প্রশাসন আছে আপনারা মহোদয়, আমাদের প্রভূ যাই বলি না কেন আপনাদের বিবেকের ওপর ছেড়ে দিলাম।’
একাত্তর টেলিভিশনের মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের একটাই প্রশ্ন মামলার এক সপ্তাহ পার হলেও আজ পর্যন্ত একটা লোককেও জিজ্ঞাসাবাদ কেন করা হলো না? আমরা ছাত্র জনতার আন্দোলনে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তাহলে সেই বাংলাদেশে আমরা জাতির বিবেক হয়ে সত্য কথা বলতে গিয়ে কেন হামলার শিকার হচ্ছি? প্রশাসনের কাছে দাবি আমাদের যেন সাদাকে সাদা,কালাকে কালা বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়। আমাদের কন্ঠ যেন চেপে ধরে রাখা না হয়।’
মেহেদী হাসান আরও বলেন, ‘সাংবাদিক মনিমের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিও করছি। প্রশাসন অতি দ্রুত হামলাকারিদের আইনের আওতায় না আনলে জেলাসহ সারাদেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনে যাবো।’
যমুনা টেলিভিশনের রুবেলুর রহমান বলেন, ‘এক সপ্তাহেও হামলাকারিরা কেউ গ্রেপ্তার নেই। কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না বা করতে পারছে না পুলিশ? অতিদ্রুত হামলাকারিদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাবে সাংবাদিকেরা।’
রাজবাড়ী রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি লিটন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় দৈনিক রাজবাড়ী কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও চ্যানেল আইয়ের রাজবাড়ী প্রতিনিধি খান মোহাম্মদ জহুরুল হক, কালের কন্ঠের জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেন, সমকালের শৈমিত্র শীল,একাত্তর টেলিভিশনের মেহেদী হাসান, চ্যানেল টুয়েন্টিফোর টেলিভিশনের সুমন বিশ্বাস,যমুনা টেলিভিশনের রুবেলুর রহমান,বৈশাখি টেলিভিশনের আজু শিকদারসহ প্রমুখ।



