রাজবাড়ীর পাংশার পৃথক স্থানে নারীসহ তিন ব্যক্তিকে দংশন করেছে বিষধর গোখরা সাপ। রোববার সন্ধ্যা ও সোমবার সকালে উপজেলার কসবামাজাইল ও যশাই ইউনিয়নে দংশনের শিকার ব্যক্তিরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দংশনের শিকাররা হলো– পাংশার কসবামাজাইল ইউনিয়নের সুবর্ণখোলা গ্রামের মৃত হাতেম মন্ডলের ছেলে কৃষক আজিজ মন্ডল (৬৫), একই ইউনিয়নের নাদুরিয়া গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের স্ত্রী হাসিনা খাতুন (৫৫) ও উপজেলার যশাই ইউনিয়নের চর-লক্ষ্মীপুর গ্রামের তারেক শেখের ছেলে আসিফ শেখ (১৮)।
সাপের দংশনে হাসপাতালে ভর্তি কৃষক আজিজ মন্ডল বলেন, ‘আজ সকালে পাট জাগ দিচ্ছিলাম। পাটের সাথে একটি সাপের বাচ্চা ছিল, আমি দেখিনি। পাট ধরার সাথে সাথেই সাপের বাচ্চাটি আমার ডান হাতে কামড় দেয়। পরে সাপটি মেরে হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় সাপটি গোখরা সাপের বাচ্চা।’
আরেক ভুক্তভোগী হাসিনা খাতুন বলেন, ‘সকালে ভাত রান্না করার সময় আমার পায়ে পিঁপড়ার মতো কিছু একটা কামড় দেয়। তাকিয়ে দেখি একটি সাপে কামড় দিয়েছে। তখন বাড়ির সবাই সাপটিকে মেরে সাপসহ আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।’
ভুক্তভোগী আসিফ শেখ বলেন, ‘রাতে আমাদের বাড়ির পাশে একটি ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় আমার পায়ে কিছু একটা কামড় দেয়। এ সময় লাইট মেরে দেখি সাপ। পরে সাপটি মেরে হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তার চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রাখছে।’
পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. এবাদত হোসেন বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় সাপে কাটা তিন রোগী হাসপাতালে এসেছে। তারা সবাই বিষধর গোখরা সাপ সাথে করে নিয়ে এসেছে। সব কয়টা সাপ মৃত ছিল। রোগীদের মধ্যে বিষাক্ত সাপে কাটার লক্ষণ রয়েছে। রোগীদের আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তবে এখনো রোগীদের মধ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়নি। তাই অ্যান্টিস্নেক ভেনম প্রয়োগ করা হয়নি।’
ডা. মো. এবাদত হোসেন আরও বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে পর্যাপ্ত অ্যান্টিস্নেক ভেনম মজুদ রয়েছে। রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ভেনম প্রয়োগ করা হবে।’



